স্পোর্টস ডেস্ক : নামের প্রতি ভীষণ অবিচার করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলসেনারা। খেলার মান দেখে একদমই ব্রাজিল মনে হয়নি দলটিকে। উত্তাপহীন ম্যাচে ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ব্রাজিলকে। এই ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী শুরুর পর, দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় মরক্কো। সেই ধাক্কা সামলে নিয়ে পাল্টা জবাব দিতে খুব বেশি সময় নেয়নি ব্রাজিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে অসাধারণ দুটি গোলে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ের সম্ভাবনা জাগল, যদিও সময় গড়ানোর সঙ্গে তা কেবলই আরও ফিকে হলো।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ২১ মিনিটের মাথায় ইসমাইল সারবারির গোলে লিড পায় মরক্কো। ৩১ মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়র সেই গোল শোধ করে দেন। এই নিয়ে টানা ২১ আসর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত (১৭ জয়, ৪ ড্র) থাকার রেকর্ড অটুট রাখল ব্রাজিল। সবশেষ ১৯৩৪ এর বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ব্রাজিল।
হার এড়ালেও ব্রাজিলের খেলা সমর্থকদের উপহার দিয়েছে স্নায়ুক্ষয়ী রাত। মরক্কোর দারুণ গতিশীল ফুটবলের সামনে ব্রাজিলের মাঝমাঠ এবং রক্ষনভাগের দুর্বলতা পরিষ্কার ধরা পড়েছে। আক্রমণভাগেও ভিনিসিউস জুনিয়র বাদে কেউই আশানুরূপ খেলতে পারেননি।
এদিন মরক্কো শুরু থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী। একের পর এক আক্রমণে প্রথম ১০ মিনিটেই ব্রাজিলকে নাস্তানাবুদ করে ফেলেন আশরাফ হাকিমি, সাইবারিরা। এরপর কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে আক্রমণে ওঠে ব্রাজিল।
বাঁ প্রান্ত দিয়ে ওপরে উঠে ভিনিসিউস দারুণ ক্রস বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু গোলমুখে সেই ক্রসে মাথা লাগাতে পারেননি ইগর থিয়াগো।
২১ মিনিটে ব্রাজিল সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন সাইবারি। প্রতিআক্রমণে ব্রাহিম দিয়াজ দুর্দান্ত এক পাস দেন। ব্রাজিলের ডিফেন্স এ সময় বেশ ওপরে ছিল। বল দখলে নিয়ে দারুণ গতিতে মাগালহেস ও মার্কুনিয়োসকে পেছনে ফেলে আগুয়ান অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান পিএসভি এইন্দহেভেনের এই স্ট্রাইকার।
গোল খেয়ে নড়েচড়ে বসে ব্রাজিল। মুহুর্মুহু আক্রমণ শানালেও মরক্কোর রক্ষণদূর্গের সামনে তা থেমে যাচ্ছিল। অবশেষে ৩২ মিনিটে ভিনিসিউসের নৈপুণ্যে আসে সাফল্য। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ওপরে উঠে ডি-বক্সের মাথায় ব্রুনো গিমারেইসকে পাস দেন ভিনি। এরপর কাট ইন করে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি জোরাল শটে বল জালে পাঠান।