শিরোনাম
◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম

প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৯ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইতিহাসের সবচেয়ে ‘সাহসী সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশনগুলোর মধ্যে কয়েকটি অভিযান নিয়ে যা জানাগেল

দক্ষিণ ইরানে ভূপাতিত একটি বিমানের চালককে উদ্ধারের অভিযানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘সাহসী সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশনগুলোর একটি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিমান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ওই কর্মকর্তা কেবল একটি হ্যান্ডগান নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের পাহাড়ে পালিয়ে যান এবং মার্কিন বিশেষ বাহিনীর উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকেন। তেহরান ঘোষণা দেয়, যে কেউ ওই কর্মকর্তাকে খুঁজে পেলে তাকে পুরস্কার দেয়া হবে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাইফেল হাতে ডজনখানেক মানুষ পাহাড়ে তাকে খুঁজছে। প্রায় দুই দিন পর শত শত বিশেষ বাহিনীর কমান্ডো, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং যুদ্ধবিমানের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) ওই কর্মকর্তার অবস্থান নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে একটি ‘প্রতারণামূলক অভিযান’ চালায়, যাতে ইরানিরা মনে করে তাকে অন্য কোথাও ইতিমধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে। এই সফল অভিযানটি সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে সাহসী উদ্ধার অভিযানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন আরও দুঃসাহসী উদ্ধার অভিযানের তথ্য আছে। এখানে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

জেসিকা লিঞ্চ: ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে প্রাইভেট জেসিকা লিঞ্চকে উদ্ধার করে। তিনি ১০ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তখন ১৯ বছর বয়সী এই সেনা সদস্য ৫০৭তম মেইনটেন্যান্স কোম্পানির ইউনিট সাপ্লাই স্পেশালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২৩ মার্চ নাসিরিয়াহ যুদ্ধের সময় ইরাকি বাহিনীর হামলায় তার কনভয় আক্রান্ত হয়। এতে ১১ জন সেনা নিহত এবং পাঁচজন বন্দি হয়। সিআইএ তথ্য পায় যে তাকে নাসিরিয়াহর একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এরপর কমান্ডোরা উদ্ধার পরিকল্পনা শুরু করে।

অভিযান শুরুর কয়েক মিনিট আগে ইউফ্রেটিস নদীর একটি সেতুর কাছে একটি ভুয়া আক্রমণ চালানো হয়, যার নেতৃত্ব দেন বৃটিশ অফিসার মেজর মাইক ট্যানার। অন্যদিকে শহরের অন্য প্রান্তে অন্ধকারে একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার বিশেষ বাহিনী নিয়ে সাদ্দাম হাসপাতালে অবতরণ করে। ভেতরে প্রবেশের পর হাসপাতালের এক কর্মী তাদেরকে জেসিকা লিঞ্চের কাছে নিয়ে যান। তিনি গুলিবিদ্ধ এবং দুই পা ও একটি হাত ভাঙা অবস্থায় ছিলেন হাসপাতালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ছিল প্রথম সফল মার্কিন যুদ্ধবন্দি উদ্ধার অভিযান।

আইসিয়াল ‘জিন’ হ্যাম্বলটন: ১৯৭২ সালের এপ্রিল। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল আইসিয়াল ‘জিন’ হ্যাম্বলটন তিনটি বোমারু বিমানের এসকর্ট করা একটি বিমানের নেভিগেটর ছিলেন। বিমানটি সোভিয়েত তৈরি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলে আঘাত পায়। তিন সদস্যের ক্রুর মধ্যে কেবল তিনিই বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। তিনি উত্তর ভিয়েতনামের বৃহৎ সামরিক অভিযানের মাঝখানে গভীর জঙ্গলে অবতরণ করেন।

সেখানে হাজার হাজার শত্রু সেনা ছিল। তাকে উদ্ধারের অভিযানটি ছিল পুরো যুদ্ধের মধ্যে ‘সবচেয়ে বড়, দীর্ঘ ও জটিল’ অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিষয়ক অপারেশন। তিনি জঙ্গলে লুকিয়ে থাকেন, তৃতীয় দিনে ভুট্টার সন্ধান পান এবং রাতে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করেন। দুই দিন পর তাকে উদ্ধারের জন্য পাঠানো ‘জলি গ্রিন জায়ান্ট’ নামে পরিচিত সিকোরস্কি এইচএইচ-৩ই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়।

তিনি বলেন, উদ্ধার করতে আসা বিমানটি মাত্র দুই মিনিট দূরে থাকা অবস্থায় বিস্ফোরিত হতে দেখে তিনি কেঁদে ফেলেন। পরে আরেকটি উদ্ধার চেষ্টার সময় তাকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১১ দিন পর ইউএস নেভি সিল লেফটেন্যান্ট থমাস নরিস ও কমান্ডো গুয়েন ভ্যান কিয়েত তাকে উদ্ধার করেন।

রিচার্ড ফিলিপস: ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন রিচার্ড ফিলিপস সোমালিয়ার উপকূলের কাছে এমভি মার্স্ক আলাবামা জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন। তখন জলদস্যুরা জাহাজটি ছিনতাই করে। একে-৪৭ অস্ত্রধারী চারজন জলদস্যু স্পিডবোটে এসে জাহাজে উঠে পড়ে। ৮ এপ্রিল ইউএসএস বেইনব্রিজ (গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার) এবং ইউএসএস হ্যালিবার্টন (ফ্রিগেট) পাঠানো হয়। ৩০,০০০ ডলার মুক্তিপণ নেয়ার পর ফিলিপসকে জলদস্যুদের একটি লাইফবোটে তোলা হয়। কিন্তু তারা তাকে ছেড়ে দেয়নি। ৯ এপ্রিল থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ও জলদস্যুদের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়। ১০ এপ্রিল তিনি পালানোর চেষ্টা করলেও গুলি ছুঁড়ে তাকে আবার আটক করা হয়। ১২ এপ্রিল ইউএস নেভি সিল টিম সিক্সের স্নাইপাররা তিন জলদস্যুকে গুলি করে হত্যা করে এবং ফিলিপসকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।

স্কট ও’গ্র্যাডি: ১৯৯৫ সালের জুনে মার্কিন পাইলট স্কট ও’গ্র্যাডি বসনিয়ায় উড়ার সময় সার্বিয়ান ক্ষেপণাস্ত্রে তার বিমান ভূপাতিত হয়। তিনি বেরিয়ে গিয়ে বেঁচে থাকার সরঞ্জাম নিয়ে লুকিয়ে পড়েন। মাটিতে শুয়ে নিজেকে ঢেকে রাখেন। তখন শত্রু বাহিনী তার কাছাকাছি গুলি চালাচ্ছিল। ছয় দিন ধরে তিনি পাতা, ঘাস ও পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে ছিলেন এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করেন। তিনি রেডিওতে সাহায্য চান। তবে নীরব থাকতে হয় কারণ শত্রুরা কাছাকাছি ছিল। ষষ্ঠ রাতে তিনি সহকর্মী পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। এরপর চারটি মেরিন হেলিকপ্টার তাকে উদ্ধারে যায় শত্রু এলাকার ৮০ মাইল ভেতরে। পরদিন তিনি ৯ এমএম পিস্তল হাতে দৌড়ে উদ্ধারকারীদের কাছে যান।

অপারেশন জেরিকো: ১৯৪৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্স ইতিহাসের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযান চালায়। লো-ফ্লাইং মশকিউটো যুদ্ধবিমান জার্মানদের দখলে থাকা একটি কারাগারে সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়, যাতে ফরাসি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মুক্ত করা যায়। খুব নিচু উচ্চতায় উড়ে রাডার এড়িয়ে কারাগারের দেয়াল ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়। প্রথম দফার হামলায় দেয়াল ভেঙে পালানোর পথ তৈরি হয়। পরে প্রশাসনিক ভবন ও ব্যারাকে হামলা চালিয়ে জার্মান বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা হয়। ৭০০ বন্দির মধ্যে ১০২ জন নিহত হন। তবে ২৫৮ জন পালাতে সক্ষম হন। এদের অর্ধেকের পরদিনই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কমপক্ষে ৫০ জন প্রতিরোধ যোদ্ধা পালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে ডি-ডে অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়