ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রে ওভারস্টে করা মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ভিজিট ভিসায় এসে ছয় মাসের বেশি অবস্থানকারীদের জন্য নতুন করে সুযোগ পাওয়া কঠিন। আগে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এসে ওভার স্টে করার পরও ইমিগ্রেশন ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতেন। অনেক সময় ওভারস্টে করার পরও পারিবারিক কারণে ছাড় পেতেন কিন্তু এখন তা পাচ্ছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিজিট ভিসায় এসে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী বা ওভারস্টে করা ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে, যারা ভিজিট ভিসায় এসে ছয় মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন, তাদের ভবিষ্যতে নতুন ভিসা পাওয়া, বৈধ অভিবাসন সুবিধা গ্রহণ কিংবা পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় যে সময়সীমা অনুমোদন করা হয়, সেই সময় অতিক্রম করলেই কোনো ব্যক্তিকে ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ থাকলেও আই-৯৪ রেকর্ডে নির্ধারিত থাকার সময় শেষ হয়ে গেলে আইনগত জটিলতা শুরু হয়।
---- ঠিকানা/নিউইয়র্ক
বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৮০ দিনের কম সময় ওভারস্টে করলে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদনে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। তবে কেউ যদি ১৮০ দিনের বেশি কিন্তু এক বছরের কম সময় অবৈধভাবে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তাহলে তার ওপর তিন বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। আর এক বছরের বেশি সময় ওভারস্টে করলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের ক্ষেত্রে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের কারণে ওভারস্টে করা ব্যক্তিদের আবেদনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন। ফলে যারা দীর্ঘ সময় ধরে ভিজিট ভিসায় থেকে গেছেন, তাদের অনেকেই নতুন কোনো অভিবাসন সুবিধা বা বৈধতার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অভিবাসন ফোরাম ও অভিজ্ঞ আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণেও দেখা যাচ্ছে, ওভারস্টে সংক্রান্ত বিষয়গুলো এখন আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
অভিবাসন আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, যারা বর্তমানে ভিজিট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে ভিসা নবায়ন, স্থায়ী বসবাসের আবেদন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ওভারস্টে-সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়লে দ্রুত অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা এবং যথাসময়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি খায়রুল বাশার বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে এসে ওভারস্টে করলেও তার নিকটাত্মীয়Ñযেমন স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা বা সন্তানÑদেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করলে পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু ছাড় পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে সেই সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। অতীতে যারা ওভারস্টে করেছেন বা বর্তমানে ওভারস্টের অবস্থায় আছেন, তারা ইমিগ্রেশন সুবিধার জন্য আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা ওভারস্টে করে পরবর্তীতে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্ট করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন অনেক কম। তাই কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ওভারস্টে করবেন না। যদি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকতে চান, তাহলে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কোনো ক্যাটাগরিতে আবেদন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খায়রুল বাশারের মতে, অনেকেই সামান্য ফি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজেরাই আবেদনপত্র জমা দেন। পরে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় নথি ও আইনি বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন না হওয়ায় আবেদন অনুমোদিত হয় না এবং নানা জটিলতা তৈরি হয়। তাই কোনো আবেদন করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
তিনি আরও বলেন, ওভারস্টে একটি গুরুতর সমস্যা। এর ফলে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। ইমিগ্রেশন আইন ও নীতিমালায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসছে। ফলে আবেদনকারী ও অপেক্ষমাণদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তবে যারা বর্তমানে কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছাড়া অবস্থান করছেন, তাদের উচিত নিজের যোগ্যতা ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আইনজীবীর পরামর্শে অন্তত একটি বৈধ আবেদন দাখিল করা।