ইরানে ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলা ও দেশটির সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে ইসরায়েলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রাণ বাঁচাতে ইসরায়েলের লাখ লাখ মানুষ বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে অবস্থান করছেন।
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান এই বড় আকারের পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত রোববার এবং সোমবারও অব্যাহত ছিল।
মূলত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর, এই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন। এর জের ধরেই ইরান অঞ্চলজুড়ে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে টানা সাইরেনের শব্দে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তেল আবিব এবং এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও, বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হেনেছে। বেইত শেমেশসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্কুল, অফিস ও জনসমাগমস্থল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আকাশপথের যোগাযোগও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বেইত শেমেসে ইরানের চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই ডজনেরও বেশি মানুষ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নিহতদের অধিকাংশই হামলার সময় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে একটি পাবলিক বা গণ-আশ্রয়কেন্দ্রে (পাবলিক শেল্টার) অবস্থান করছিলেন। এই ঘটনার পর ইসরায়েলি জনমনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের এই পাল্টা হামলা শুধু ইসরায়েলের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেনি। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দুবাই, কুয়েত ও বাহরাইনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে আঞ্চলিক যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ হিসেবে দেখছেন। বিশ্বনেতারা সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আলোচনার টেবিলে ফেরার তাগিদ দিয়েছেন। তবে বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি চরম অনিশ্চয়তা ও ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে।
সূত্র: ইনকিলাব