শিরোনাম
◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক

প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:৩২ বিকাল
আপডেট : ২৫ মে, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্য রপ্তানিতে ১৯ শতাংশ শুল্ক থাকায়, বাংলাদেশকে টপকে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাওয়ার আশা করেছিলেন তাঁরা। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চুক্তিতে সেই হিসাব নড়বড়ে হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু টেক্সটাইল ও পোশাকপণ্য শূন্য পারস্পরিক শুল্কহারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এই ব্যবস্থায় বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানির একটি নির্ধারিত পরিমাণ কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবে। তবে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানিকৃত টেক্সটাইলের পরিমাণের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে। যেমন—যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও ম্যানমেড ফাইবার (এমএমএফ) টেক্সটাইল ইনপুট।’


গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ১৪৭ কোটি ডলারের তুলার সুতা রপ্তানি করেছে। পরিমাণ ছিল ৫৭ কোটি কেজি। বাংলাদেশ ভারতীয় সুতার সবচেয়ে বড় বাজার। গত বছর ভারত বাংলাদেশে ১২–১৪ লাখ বেল তুলা পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে। ভারতের তুলাভিত্তিক পোশাক রপ্তানির ২৬ শতাংশও যায় যুক্তরাষ্ট্রে।


যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ আবারও সামনে এসেছে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক থাকায়, বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার যে আশা ছিল, তা এখন অনিশ্চিত।

চুক্তির শর্তে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা করবে, যাতে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট পরিমাণ টেক্সটাইল ও পোশাকপণ্য শূন্য পারস্পরিক শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারে। এই পরিমাণ নির্ধারিত হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানিকৃত টেক্সটাইল ইনপুটের সঙ্গে মিলিয়ে। যেমন—যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও এমএমএফ টেক্সটাইল উপকরণ।

কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির মহাসচিব চন্দ্রিমা চ্যাটার্জি বলেন, ‘আমি আশঙ্কা করছি—এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে ভারতীয় তুলার সুতার ওপর। কারণ, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলা কিনে নিজেদের টেক্সটাইল কারখানায় সুতা তৈরি করতে পারবে।’

তিরুপ্পুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম সুব্রামানিয়ান বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন রপ্তানিকারক ১০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করেও দাবি করতে পারে যে তিনি ১০০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করেছেন। কাঁচামালের উৎস বা ট্রেসেবিলিটি যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নির্ধারণ করবে? বাংলাদেশ যেহেতু পোশাক খাতে খুব শক্ত অবস্থানে আছে, তাই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি।’

ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের টেক্সটাইল-বিষয়ক জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় কে জৈন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাক আমদানি আরও বাড়বে। এতে নিট ও বোনা—দুই ধরনের পোশাকই থাকবে। ১০০ শতাংশ তুলাভিত্তিক পণ্য, যেমন—টি-শার্ট ও নারীদের টপসে ভারত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

তবে কিছু অংশীজন মনে করেন, প্রভাব খুব বেশি না-ও হতে পারে। কোয়েম্বাটুরভিত্তিক এক পোশাক রপ্তানিকারক বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে বাংলাদেশের টেক্সটাইল মিলগুলো সংকটে আছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা কিনে সুতা তৈরি করা বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে।

কটন টেক্সটাইলস এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক সিদ্ধার্থ রাজাগোপাল বলেন, ‘বাংলাদেশ তুলা উৎপাদন করে না, ম্যানমেড ফাইবারও তৈরি করে না। পারস্পরিক শুল্ক ১৯ শতাংশ মওকুফ পেতে হলে তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এমএমএফ সুতা বা তুলা কিনতে হবে। তবে এমএফএন হার বহাল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলা আনতে যে সময় লাগে, পরিবহন ও সংরক্ষণ খরচও বিবেচনায় নিতে হবে। তা ছাড়া, সব পণ্য আমেরিকান তুলা দিয়ে বানানো যায় না। তাই পণ্যের ধরন বদলাতে হবে। সরবরাহ শৃঙ্খলও নতুন করে সাজাতে হবে। এটি এক রাতের মধ্যে হবে না। সবকিছুতেই সময় লাগবে। এটি ২০০০ সালের আগে যে কোটা ব্যবস্থা ছিল, সেদিকেই ফিরে যাওয়ার মতো।’

ভারতীয় অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এ শক্তিভেল বলেন, ‘গত এপ্রিলে মার্কিন সরকার এক নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো পণ্যে অন্তত ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন থাকলে, শুল্কহার শুধু নন-ইউএস অংশের ওপরই প্রযোজ্য হবে। আমরা ভারত সরকারকে অনুরোধ করব, বাংলাদেশকে যেভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, ভারতীয় পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্যও যেন তেমন একটি বিধান চাওয়া হয়।’ তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়