যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন ও বিনিয়োগ প্রত্যাহার বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে রুপির ব্যাপক দরপতন হয়েছে। ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে রুপির দাম।
রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার সীমা ৯১ অতিক্রম করে। এদিন রুপি ০ দশমিক ৩ শতাংশ দুর্বল হয়ে ৯১ দশমিক ০৭৫০-এ নেমে আসে, যা টানা চতুর্থ দিনের মতো রেকর্ড সর্বনিম্ন। এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রুপি ৯০-এর উপরে উঠেছিল।
২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৬ শতাংশের বেশি কমেছে, ফলে এটি উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর মধ্যে এখন একটি। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে রুপির ওপর।
রয়টার্স চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, ভারতের বহির্বাণিজ্য খাত একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক তুলনামূলক দুর্বল রুপি গ্রহণ করবে। মে মাসে ৮৩ দশমিক ৭৭-এ বছরের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত রুপি প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি মূল্য হারিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি না হলে রুপির অবস্থার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। জাপানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমইউএফজি মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় ডলার–রুপি বিনিময় হার আরও বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি, তবে বর্তমান উচ্চ স্তরে গিয়ে ডলার কেনার ব্যাপারে তারা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
তবে, ভারতের নভেম্বর মাসের রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানো এবং অর্থনীতির স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে করে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের চাপও কিছুটা কমেছে।
সোমবার ভারতের বাণিজ্য সচিব জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব চুক্তি সম্পন্ন করা যায় কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি কমে পাঁচ মাসের মধ্যে নেমে এসেছে সর্বনিম্ন ২৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে।