স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের প্রথম অঘটন। শুরুতেই স্প্যানিশ জায়ান্টের পতন। সোমবার রাতে কেপ ভার্দের কাছে আটকে গেল স্পেন। ম্যাচ গোলশূন্য। ছোট্ট এই দেশের প্লেয়ারদের অনেকেরই জন্ম অন্য দেশে। পর্তুগাল, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ অনেকেরই। প্রথমবার জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার আগে অনেকেই আফ্রিকার দেশে পা রাখেনি। মালাগার থেকেও জনসংখ্যা কম এই দেশের। কিন্তু লড়াকু ফুটবল উপহার বিশ্বকাপের আনকোরাদের।
নব্বই মিনিটের শেষে ইতিহাসে নাম লেখাল কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আটকে দিল ইউরোপের সেরাদের। সৌজন্যে কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিন্হা। যার পুরো নাম জোসমার জোস ইভরা ডায়াস। কমপক্ষে একাই পাঁচ বা তারও বেশি গোল বাঁচান। এদিন গোলের নিচে ৪০ বছরের কিপারের দু'হাত না থাকলে জার্মানি-কুরাকাও ম্যাচের স্কোরলাইনের ধারেকাছে গেলেও অবাক হওয়ার ছিল না।
আফ্রিকান দেশের পায়ের জঙ্গলে আটকে গেল স্পেন। পাঁচজন রেখে রক্ষণ সাজিয়েছিলেন কোচ। কিন্তু স্প্যানিশ আর্মাদা রুখতে দশজনে রক্ষণে নেমে যায়। বিরতিতে অন্তত ৩-০ গোলে এগিয়ে যেতে পারত লা রোজারা। কিন্তু ৪০ বছরের কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিন্হার হাতে আটকে যায় পেদ্রো, তোরস, গাভিদের যাবতীয় আক্রমণ। তেকাঠির নিচে যেন বাজপাখি। ভোজিন্হার দস্তানায় প্রথমার্ধে আটকে যায় ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। এদিন লামিন ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামসকে প্রথম একাদশে রাখেননি কোচ লুই ডে লা ফুয়েন্তে। ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজান।
স্পেন মানেই তিকিতাকা। পজেশনাল ফুটবল। অসংখ্য ছোট পাস খেলে গোলমুখ খোলা। এদিন শুরুতে বিশ্বকাপের নবাগতদের মেপে নেওয়ার চেষ্টা করে স্পেন।
শুরুতে একাধিক পাসের মাধ্যমে বল দখলে রাখে মাঝমাঠ। কিন্তু আটলান্টা স্টেডিয়ামে যে ইউরোপ সেরারা আটকে যাবে, সেটা বোধহয় পরিকল্পনা করতে পারেনি অতি বড় ফুটবল বোদ্ধাও। দশের মধ্যে সাত ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি ঠিকই। কিন্তু উল্টো দিকে যখন স্পেন, চোখে চোখ রেখে কেপ ভার্দের এমন লড়াকু ফুটবল আশা করা যায়নি। তবে তার জন্য ৭৫ শতাংশ কৃতিত্ব গোলকিপার ভোজিন্হার।
বাকিটা রক্ষণের। মূলত একটি অর্ধেই খেলা হয়। খেলা খুব বেশি হাফ লাইন পেরোয়নি। অর্থাৎ, হাতেগুনে দুই থেকে তিনবার কাউন্টার অ্যাটাক আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে কেপ ভার্দে। বাকিটা দশজনে রক্ষণে নেমে স্পেনকে আটকে দেওয়ার স্ট্র্যাটেজি।
ম্যাচের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে শুরু থেকেই প্রেসিং ফুটবল স্পেনের। ম্যাচের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণের গতি বাড়ে। কুকুরেয়া, তোরেসরা শুরু থেকেই চনমনে ছিল। স্পেনের প্রথম সুযোগ ম্যাচের ১৬ মিনিটে। পেদ্রির দুর্বল গড়ানো শট তালুবন্দি করেন বিপক্ষ কিপার। প্রথম ২০ মিনিট বল দখলে অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও, গোল লক্ষ্য করে শট মাত্র একটি। ম্যাচের ২৮ মিনিটে দ্বিতীয় সুযোগ। কুকুরেয়ার শট বক্সের ওপর দিয়ে ভেসে যায়।
৩০ মিনিটে পর থেকে ম্যাচের টেম্পো বাড়ানোর চেষ্টা করে স্পেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে নিশ্চিত জোড়া সুযোগ সেভ। কুকুরেয়ার শট ক্লিটার করে রক্ষণ। ফিরতি বলে পেড্রির শটে দুরন্ত সেভ কেপ ভার্দের কিপারের। নিশ্চিত গোল বাঁচান। তার দু'মিনিটের মধ্যে আবার সুযোগ। ওয়ারজাবালের হেড পোস্টে লাগে। ফিরতি বলে তোরেসের হেড বাঁচান ভোজিন্হা। বিরতির ঠিক আগে সুযোগ পেয়েছিল তোরেস। কিন্তু আবার পরিত্রাতা সেই কেপ ভার্দের গোলকিপার।
স্পেনের মাঝমাঠে প্রতিভার সম্ভার থাকা সত্ত্বেও, মূলত উইং দিয়ে আক্রমণ শানায় লা রোজারা। সবচেয়ে নজর কাড়ে কুকুরেয়া। ম্যাচের ৭০ মিনিটে লামিন ইয়ামালকে নামানো হয়। কিন্তু চোট সারিয়ে ফিরে চেনা ছন্দে দেখা যায়নি ১৮ বছরের তারকাকে। শেষদিকে নিকো উইলিয়ামসকে নামিয়েও লাভ হয়নি।