স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের সহ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি নিহত হওয়ার ঘটনায় আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনী একযোগে ইরানে বিমান হামলা শুরু করে। পরদিন খামেনেয়ির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় ৪৮ দল নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালসহ মোট ৭৮ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। --- অলআউট স্পোর্টস
গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ড্র অনুষ্ঠানে ‘জি’গ্রুপে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে জায়গা পায় ইরান। তাদের গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে, দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে।
বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনয়ামালি বলেন, “যেহেতু এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, কোনো অবস্থাতেই আমরা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারি না।
আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নয় এবং মৌলিকভাবে, অংশগ্রহণের মতো এমন পরিস্থিতি বিদ্যমান নেই।
ইরানের বিরুদ্ধে তারা যে বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তা বিবেচনা করে, তারা আট বা নয় মাসে আমাদের ওপর দুটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। আমাদের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা ও শহীদ করেছে। অতএব আমরা নিশ্চিতভাবেই এমন উপস্থিতি রাখতে পারি না।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে দাপট দেখিয়ে গত বছরের মার্চে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা ইরান গত সপ্তাহে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফিফা প্ল্যানিং সামিটেও অনুপস্থিত ছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগ করেছে। অন্যদিকে ইরান বিশ্বকাপ বয়কট করলে তাদের বদলে কোন দল খেলবে, সে বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।