স্পোর্টস ডেস্ক : দারুণ এক সুখবর পেলো বার্সেলোনা ক্লাব। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের আর্থিক চিত্র নিয়ে প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদনে বড় সুখবর পেয়েছে তারা। ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা ইউয়েফার বার্ষিক আর্থিক সমীক্ষায় জার্সি বিক্রি ও বিপণন আয়ে সবার ওপরে উঠে এসেছে তারা। স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভোর বরাতে জানা গেছে, ‘ইউরোপীয় ক্লাব অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পর্যালোচনা ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের শীর্ষ ২৫টি ক্লাবের মধ্যে ২১টি ২০২৫ সালে কিট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও বিপণন থেকে আগের বছরের তুলনায় বেশি আয় করেছে। এর মধ্যে ১৯টি ক্লাবই গড়েছে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড। তবে সবার মধ্যে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন বার্সেলোনার।
উয়েফার তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে আয় বৃদ্ধির দিক থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বার্সেলোনার। এই উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারক নাইকির সঙ্গে ক্লাবটির নবায়ন করা চুক্তির প্রথম পূর্ণ মৌসুম। যেখানে শীর্ষ ২৫ ক্লাবের গড় প্রযুক্তিগত সরবরাহকারী আয়ের বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬ শতাংশ, সেখানে বার্সেলোনার প্রবৃদ্ধি ছিল তালিকার মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয়।
সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয়, জার্সি বিক্রি ও বিপণন মিলিয়ে ২৭৭ মিলিয়ন ইউরো আয় করেছে কাতালান ক্লাবটি। এই অঙ্ক তাদের ইউরোপের শীর্ষে বসিয়েছে। তুলনায় রিয়াল মাদ্রিদ আয় করেছে ২৩১ মিলিয়ন ইউরো এবং বায়ার্ন মিউনিখ ১৮৯ মিলিয়ন ইউরো।
তালিকায় তারপর আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (১৭২ মিলিয়ন ইউরো), আর্সেনাল (১৫১ মিলিয়ন), লিভারপুল (১৪৮ মিলিয়ন), টটেনহ্যাম হটস্পার (১০২ মিলিয়ন), গালাতাসারাই (৯৯ মিলিয়ন), চেলসি (৯৫ মিলিয়ন), পিএসজি (৮৮ মিলিয়ন) এবং ম্যানচেস্টার সিটি (৮৮ মিলিয়ন)।
সংখ্যাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মেসি-পরবর্তী সময়েও বার্সেলোনার বাণিজ্যিক শক্তি কিছুটা কমলেও তা আবার বাড়ছে। বিশেষ করে ‘নম্বর টেন’ জার্সিধারী তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের উত্থান এই আগ্রহ বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাব দলে ভিড়িয়েছে কিলিয়ান এমবাপের মতো মহাতারকাকে। তবু বার্সেলোনার নিজস্ব দর্শন, তরুণ একাডেমি-নির্ভর দল গড়া এবং ক্লাবের পরিচয় ধরে রাখা—বাজারে সমানভাবে সাড়া জাগাচ্ছে। উয়েফার এই প্রতিবেদন সেই বাস্তবতাই আরও একবার সামনে নিয়ে এলো।