শিরোনাম
◈ শুধু মাতৃভূমি নয়, বিশ্বশান্তির জন্যও কাজ করছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ব্যভিচার ও প্রতারণার মামলায় খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা ◈ এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার আইনে নতুন শাস্তির বিধান ◈ প্রতিবাদ: বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানী খে‌লোয়াড়‌দের জার্সিতে লেখা #168! লজ্জায় মুখ ঢাকবে আমেরিকা  ◈ বাজেটে স্বস্তি ও চ্যালেঞ্জ দুটোই, করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা ◈ ময়মনসিংহে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচল বন্ধ ◈ বিশ্বকা‌পের শেষ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে আইসল‌্যান্ড‌কে ৩-০ গো‌লে হারা‌লো আ‌র্জেন্টিনা, মাঠে ফি‌রেই মেসির গোল ◈ বাজুসের নতুন ঘোষণা, দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম ◈ 'এই সময়' কে দেয়া সাক্ষা‌তকা‌রের দ্বিতীয় পর্ব-- টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাবো বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, আমি জানতামই না, দেশের বাইরে যাচ্ছি: শেখ হা‌সিনা ◈ লাল টেলিফোনের পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি, নিরাপত্তা সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভবন

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ দুপুর
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৬, ০২:২৭ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

'এই সময়' কে দেয়া সাক্ষা‌তকা‌রের দ্বিতীয় পর্ব-- টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাবো বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, আমি জানতামই না, দেশের বাইরে যাচ্ছি: শেখ হা‌সিনা

এর আর বাদল: প্রাণ বাঁচাতে আধ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তুত হয়ে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাড়ি ‘গণভবন’ ছাড়তে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। সে জন্য পদত্যাগ করার সময় বা সুযোগ তিনি পাননি। তিনি যে দেশ ছাড়বেন, সেটাও ঠিক হয়েছিল একেবারে শেষ মুহূর্তে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘এই সময়’-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আমি টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাব বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমি জানতামই না, দেশের বাইরে যাচ্ছি।’ তাঁর কথায়, ‘আমাকে পদত্যাগ করার সময় দেওয়া হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী স্বহস্তে লিখিত পদত্যাগপত্র সশরীরে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সামনে উপস্থিত থেকে তাঁর হাতে তুলে দেওয়াটাই নিয়ম। কিন্তু সে সুযোগ আমি পাইনি। গণভবন আক্রমণ করতে এলে আমার হাতে সাকুল্যে ৩০-৪০ মিনিট সময় ছিল।

ঢাকার একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও বিশিষ্ট এক সাংবাদিক সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ২০২৪-এর ৫ অগস্ট আন্দোলনকারীরা গণভবন ঘিরে ফেললে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে তিন পাতার একটি পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন। সেই চিঠি তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক কর্মীকে দিয়ে টাইপ করাতে চেয়েছিলেন। ওই সাংবাদিকের দাবি, তড়িঘড়ি দেশ ছাড়তে হওয়ায় তিন পাতার সেই পদত্যাগপত্র তিনি নিজের ভ্যানিটি ব্যাগে পুরে নিয়ে চলে যান। 

শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘সম্প্রতি একটি সংবাদপত্রের সম্পাদকের একটি দাবি ঘিরে আপনার পদত্যাগের বিষয়টি ফের সামনে এসেছে। আপনি কি আদৌ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সাহেবের হাতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন? অথবা তিন পাতার একটি পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন, যা পরে আর স্বাক্ষর করে জমা দেননি?

এই প্রশ্নের উত্তরে মুজিব–কন্যা বলেছেন, ‘আমাকে দেশ ছেড়ে চলে আসতে হবে, এটা আমি কোনও দিনই ভাবতে পারিনি। আমি দেশের মানুষের আর্থ–সামাজিক উন্নয়নের জন্য, তাঁদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। তাঁদের লাশ বানিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চিন্তা আমার কখনওই ছিল না।’ হাসিনার সংযোজন, ‘৫ অগস্ট (২০২৪) কোনও স্বাভাবিক দিন ছিল না। সে দিন বাংলাদেশকে একটি ভয়াবহ সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। গণভবনের দিকে উন্মত্ত জনতা অগ্রসর হচ্ছিল। 

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। পুলিশ, প্রশাসন, নিরাপত্তা কাঠামো-সহ সব জায়গায় চাপ, বিভ্রান্তি এবং পরিকল্পিত অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছিল।’ হাসিনার দাবি, বোন রেহানা এবং তাঁকে হত্যার জন্যই আন্দোলনকারীরা গণভবনে আক্রমণ করেছিল। তাঁর কথায়, ‘আমার নিরাপত্তা নিয়ে সকলে খুব উদ্বিগ্ন ছিল। আন্দোলনকারীরা রেহানা এবং আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্য নিয়েই গণভবন আক্রমণ করতে এসেছিল। 

তাদের অনেকের বক্তব্যেই এটি উঠে এসেছে যে ‘লাশ ফেললে সরকার পড়ে যাবে’। ভুয়ো আইডি কার্ড বানিয়ে গণভবনে লোক নিয়ে আসা হয়েছিল, এই কথা (আন্দোলনের) সমন্বয়করাই স্বীকার করেছে।’ হাসিনা বুঝিয়েছেন, সেই অল্প সময়ে (৩০-৪০ মিনিট) বসে বসে পদত্যাগপত্র লেখার সময়ও তাঁর ছিল না।

হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘জুলাই-আন্দোলন মোকাবিলায় প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আপনাকে নির্দেশদাতা হিসাবে অভিযুক্ত করে দণ্ড দিয়েছে। সম্প্রতি আপনি রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে আইনজীবীর চিঠি পাঠিয়ে তাঁদের রিপোর্টে দেওয়া প্রাণহানির তথ্য সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে ‘রেজিম চেঞ্জ’ পরিকল্পনায় রাষ্ট্রপুঞ্জের এই শাখা সংস্থাটিও যুক্ত বলে কি আপনি মনে করেন?

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর জবাব, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আইসিটি (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) গঠন করা হয়েছিল। 

অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার বেআইনি ভাবে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আমাকে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে, সেটি কোনও বিচার নয়, এটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ মাত্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪–এর জুলাই-আগস্টে যে আন্দোলন হয়েছিল সেটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। কোটা পরিবর্তনের দাবির আড়ালে এটি ছিল একটি সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলন, যাতে দেশি ও বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জড়িত ছিল। অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতা দখল করা (মুহাম্মদ) ইউনূস নিজেই এই আন্দোলনকে ‘মেটিকুলাসলি ডিজাইনড’ বলে উল্লেখ করেছেন। 

এই ষড়যন্ত্রকে সফল করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরাই হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নিয়েছিল।’ তাঁর সংযোজন, ‘এই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্ররা প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বলেছে, আন্দোলন সফল করার জন্য তারা পুলিশ হত্যা করেছে, মেট্রোরেলে আগুন দিয়েছে। আন্দোলন সফল না হলে সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিকল্পনার কথাও তারা স্বীকার করেছে।

প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, ‘কোন মৃত্যুই কাম্য নয়। প্রথম হতাহতের ঘটনার পরেই তাই আমি সঠিক ভাবে তদন্ত করার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। কিন্তু দেশবিরোধী গোষ্ঠী ক্ষমতা দখল করে সেই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে। এমনকী, নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত পর্যন্ত করতে দেয়নি।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘কী ভয় ছিল তাদের? কেন আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে?

রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার শাখা (ওএইচসিএইচআর)-র রিপোর্ট প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ‘তারা এই তদন্ত করেছিল ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে। যারা চক্রান্ত করে অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করল, তাদের আমন্ত্রণে পরিচালিত তদন্ত কী ভাবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে পারে? এই প্রতিবেদনে জুলাই-অগস্টে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এর সপক্ষে কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি। খোদ অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৮৩৪। এমনকি গেজেটেও নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য মিথ্যা নাম সংযোজন করা হয়েছে।

হাসিনা বলেন, ‘ওএইচসিএইচআর-এর কমিশনার ভলকার টুর্ক ২০২৫–এর মার্চে বিবিসি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন— তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, আন্দোলন দমনে কঠোর হলে শান্তিরক্ষী মিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এটি দৃশ্যতই একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল, যা রাষ্ট্রপুঞ্জের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।’ তাঁর কথায়, ‘এটা পরিষ্কার, জুলাই-অগস্টের ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলন চলার সময়ে এবং প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশন নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়