শিরোনাম
◈ বিশ্বকাপের ক‌য়েক ঘণ্টা আগেই ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে ফ্রা‌ন্সের আদাল‌তে মামলা করলেন মি‌শেল প্লাতিনি ◈ শুধু মাতৃভূমি নয়, বিশ্বশান্তির জন্যও কাজ করছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ব্যভিচার ও প্রতারণার মামলায় খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা ◈ এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার আইনে নতুন শাস্তির বিধান ◈ প্রতিবাদ: বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানী খে‌লোয়াড়‌দের জার্সিতে লেখা #168! লজ্জায় মুখ ঢাকবে আমেরিকা  ◈ বাজেটে স্বস্তি ও চ্যালেঞ্জ দুটোই, করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা ◈ ময়মনসিংহে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচল বন্ধ ◈ বিশ্বকা‌পের শেষ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে আইসল‌্যান্ড‌কে ৩-০ গো‌লে হারা‌লো আ‌র্জেন্টিনা, মাঠে ফি‌রেই মেসির গোল ◈ বাজুসের নতুন ঘোষণা, দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম ◈ 'এই সময়' কে দেয়া সাক্ষা‌তকা‌রের দ্বিতীয় পর্ব-- টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাবো বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, আমি জানতামই না, দেশের বাইরে যাচ্ছি: শেখ হা‌সিনা

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ০২:২৭ দুপুর
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৬, ০৩:২৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যেসব কারণে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা, জানালেন আইনজীবী

দীর্ঘ পাঁচ বছর তিন মাসের আইনি লড়াই শেষে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, বৈধ তালাক ছাড়াই বিয়ে, ব্যভিচার এবং মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এ রায় দেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আনা অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানান, আদালতের সিদ্ধান্তে এখন আর নাসির ও তামিমার বিয়েকে অবৈধ বলার কোনো সুযোগ নেই। আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তামিমা সুলতানার আগের স্বামী রাকিব হাসানকে দেওয়া তালাকের বৈধতা। আদালত এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের একটি রায়ের আলোকে পর্যবেক্ষণ দেন।

এ বিষয়ে আদালতের বরাতে নাসির-তামিমার আইনজীবী বলেন, ‘বিচারক কিছু ফাইন্ডিংস পড়ে শুনিয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের একটি রায়; যে রায়ে বলা আছে, তালাকনামার নোটিশ কোনো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে না পৌঁছানোর মানে এই নয় যে—তালাক হয়নি।’

‘উচ্চ আদালতের সেই রায় অনুসারে পর্যবেক্ষণে আদালতের বিচারক বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক হলে সেই তালাকের পর তারা আলাদা বা একসঙ্গে থাকবে কি না তাদের আচরণ বা কন্ডাক্টই মূল বিষয়,’ যোগ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলার সাক্ষ্য পর্যালোচনায় আদালত বলেছেন—ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ের আগে ২০১৬ সালে তামিমা সুলতানা তার আগের স্বামী রাকিব হোসেনকে তালাক দিয়ে সৌদি আরব গিয়েছেন। ২০২১ সালে এসে নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তামিমা কতদিন বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন কিংবা রাকিবের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবস্থা কী ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।’

রায়ের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে নাসির তামিমার আইনজীবী আরও বলেন, ‘উপরন্তু নাসির-তামিমার আইনজীবীর জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেছিলেন, তামিমা সুলতানা তালাক দেওয়ার পর নাসিরের সঙ্গে বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে কতদিন তিনি বাংলাদেশে থেকেছেন জানেন না।’

মামলায় তামিমার তালাকনামাকে জাল বলে দাবি করা হলেও সেই অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণের বরাতে নাসির-তামিমার আইনজীবী বলেন, ‘অভিযোগে বলা হয়েছে তালাকনামা জাল। এ বিষয়ে আদালত জানিয়েছেন—একটি তালাকনামার মূল কপি যদি জব্দ করা হয় এবং প্রদর্শিত হয়; তখন সেটা জাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। অধিকন্তু পোস্টাল মাধ্যমে তালাকের যে নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই পোস্টাল নিশ্চিতকরণে মূল জব্দ করা হয়েছে এবং তালাকনামা বা পোস্টাল রিসিট জাল বলতে গেলে এরকম আরেকটি কপি থাকতে হবে।’

‘আদালত আরও বলেছেন, পোস্টাল রিসিটে পোস্টাল অফিসের যে কর্মকর্তার স্বাক্ষর আছে সেই স্বাক্ষরও বাদীপক্ষের থেকে জাল দাবি করা হয়নি। কিংবা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেনি, এই স্বাক্ষর জাল,’ যোগ করেন আইনজীবী আজিজুল।

শেষে তিনি বলেন, ‘এর ফলে আদালত এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়ে ফাইন্ডিংস দেন, তামিমা সুলতানা তার আগের স্বামীকে যথাযথভাবে তালাক দিয়ে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।’

এসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, তামিমা সুলতানা তার আগের স্বামীকে যথাযথভাবে তালাক দিয়েই নাসির হোসেনের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছেন। ফলে তাদের বিয়েকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামিমা ও নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে তিনি পুরো ঘটনা সম্পর্কে অবগত হন।

বাদীপক্ষের দাবি ছিল, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থাতেই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবৈধ। পাশাপাশি নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় রাকিব ও তার কন্যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে কয়েক বছর ধরে আলোচিত এই মামলার আইনি অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়