গ্রীষ্মকালে তীব্র রোদ, ধুলাবালি, দূষণ ও শুষ্ক গরম হাওয়ার কারণে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন— চোখে জ্বালা, চুলকানি, শুষ্কতা, লালভাব এবং অতিরিক্ত জল পড়া কিংবা অস্বস্তি। যেভাবে গরমে শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে, ঠিক তেমনই চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতার ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে।
এ বিষয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের প্রাকৃতিক পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়। ফলে চোখের পৃষ্ঠে আর্দ্রতা কমে যায় এবং জ্বালা কিংবা অস্বস্তি অনুভূত হয়। দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকলেও এ সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। পোশাকি ভাষায় যাকে বলে ড্রাই আইজ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, এসি ঘরে কেন চোখ জ্বালা করে—
চোখ জ্বালার কারণ
চোখের শুষ্কতা বা ড্রাই আইজ গরমকালে চোখের জ্বালার অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক হাওয়ার কারণে চোখের পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে গ্রীষ্মকালে ধুলো, দূষণ ও বিভিন্ন অ্যালার্জির মাত্রা বেড়ে যায়, যা চোখে জ্বালা, চুলকানি ও লাল ভাবের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি একটু বেশি সংবেদনশীল চোখ হয়, তাহলে তো কথাই নেই।
চোখের যত্ন
পর্যাপ্ত পানি পান করুন। আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখলে চোখের আর্দ্রতাও বজায় থাকে। দীর্ঘদিন ড্রাই আইজের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লুব্রিকেটিং আই ড্রপ কিংবা আর্টিফিশিয়াল টিয়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
গরমে বাইরে কম বের হওয়ার ফলে অনেকেই দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকেন। স্ক্রিনের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক ফেলার হার কমে যায়। এর ফলে চোখ দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং ক্লান্তি, জ্বালা ও অস্বস্তি বাড়ে।
সুইমিংপুলেও হতে পারে সমস্যা
গরমে অনেকেই সাঁতার কাটতে পছন্দ করেন। তবে সুইমিং গগলস ছাড়া ক্লোরিনযুক্ত পুলে সাঁতার কাটলে চোখে জ্বালা ও লালভাব দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
সাময়িক জ্বালা কিংবা অস্বস্তি অনেক সময় নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে চোখ লাল থাকে, ব্যথা হয়, ফোলা দেখা দেয় এবং ঝাপসা দেখতে শুরু করেন কিংবা আলোতে অতিরিক্ত অস্বস্তি অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব চোখের সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।