শিরোনাম
◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা ক‌তোটা শ‌ক্তিশালী, রোববার সকা‌লে পরীক্ষা নে‌বে হন্ডুরাস ◈ দেশের শিশুস্বাস্থ্যে গবেষণার কেন্দ্র বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, তবু শয্যা ও প্রযুক্তি সংকট ◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে? ◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান

প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৯:২৭ রাত
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এসপিদের ওপর সরকারের কড়া নজরদারি, একের পর এক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করা জেলা পুলিশ সুপারদের কর্মকাণ্ডের ওপর সরকারের নিবিড় নজরদারি সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পৃথকভাবে তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ওপর এই নজরদারি করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনকালে কর্মদক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতার দিকটি নানাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং বিতর্কিত ভূমিকা গ্রহণের অভিযোগ আসলেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত এক মাসে চার জেলার পুলিশ সুপারকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। দুটি হত্যাকাণ্ডসহ আলোচিত কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহফুজ আফজালকে। ছয় মাস আগে ঝিনাইদহের এসপির দায়িত্ব পেয়েছিলেন মাহফুজ আফজাল। বৃহস্পতিবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। আদেশে বলা হয়, মাহফুজ আফজাল জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে ৫ জুনের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঝিনাইদহের এসপি পদে যোগ দেন মাহফুজ আফজাল। তার দায়িত্ব পালনকালে ঝিনাইদহে দুটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে ঝিনাইদহে। তবে আদেশে মাহফুজ আফজালকে প্রত্যাহারের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে ফেনী, পঞ্চগড় ও মৌলভীবাজার জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তর। তারা হলেন- ফেনীর মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান, পঞ্চগড়ের মো. মিজানুর রহমান ও মৌলভীবাজারের মো. রিয়াজুল ইসলাম। দায়িত্বশীলরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনী একটি সংবেদনশীল সময় পার করছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনর্গঠন, জনআস্থা ফিরিয়ে আনা এবং পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকার ও পুলিশ সদর দপ্তর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ অবস্থায় এসপি প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্তকে অনেকে ‘শৃঙ্খলাবিষয়ক বার্তা’ হিসেবে দেখছেন। আবার একের পর এক এসপি প্রত্যাহারের ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার খবরও আসছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়নের আগে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে গোপন প্রতিবেদন নেওয়া হয়। দেখা হয় রাজনৈতিক আদর্শ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো মামলা আছে কিনা- এ ব্যাপারেও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রিপোর্ট নেওয়া হয়। এরপর সবকিছুতে ইতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়নের জন্য ফিট হিসেবে গণ্য করা হয়।

এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক এসপি প্রত্যাহারের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ মে মাসে ফেনী ও পঞ্চগড়ের দুই আলোচিত এসপিকে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি জেলার এসপিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ জেলার পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে গতকাল শুক্রবারের মধ্যে রিপোর্ট করতে বলা হয়। গত কয়েক মাসে এমন একাধিক সিদ্ধান্তকে পুলিশ বাহিনীর জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি সরকারের প্রশাসনিক নীতিতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে জেলায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম এখন আগের চেয়ে বেশি পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে। কোনো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক অভিযোগ কিংবা প্রশাসনিক অসন্তোষ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অবশ্য কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন, ঘন ঘন প্রত্যাহার কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। যদি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকে, তাহলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

সাবেক কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, অতীতে অনেক সময় জেলার এসপিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে অভিযোগ বা বিতর্ক সামনে এলেই কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখন জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা বুঝতে পারছেন যে কোনো পদই স্থায়ী নয়। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা বিতর্ক তৈরি হলে দ্রুত বদলি বা প্রত্যাহারের ঝুঁকি রয়েছে। তাদের মতে, এই প্রবণতা একদিকে কর্মকর্তাদের সতর্ক করছে, অন্যদিকে প্রশাসনের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণও জোরদার করছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যশোর, নীলফামারী, কক্সবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার এসপিদেরও হঠাৎ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ওই সময় পুলিশ সদর দপ্তর তাদের ঢাকায় রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেয়। ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের কারণগুলো স্বচ্ছভাবে দেখতে হবে। যেকারণে প্রত্যাহার করা হলো সেই কারণ যদি বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি হয় তবে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি কর্মদক্ষতার নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

গত ১৪ মে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে আসে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার হতে রিয়াজুল ইসলাম আড়াই কোটিতে চুক্তি করেছিলেন একজন তদবিরকারীর সঙ্গে। তবে এসপি হওয়ার চুক্তি অনুযায়ী তিনি টাকা দিচ্ছেন না। নিয়োগ পাওয়ার পর টাকা না দিয়ে কাজ করে দেওয়া পক্ষকে ঘোরাচ্ছেন। এসপি রিয়াজুল ইসলাম তার এক আত্মীয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়োগ পাওয়ার দুই দিন পর ৭ মে ২০ লাখ টাকা দেন। বাকি ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা না দিয়ে নানা তালবাহানা করছেন। এ ছাড়া অভিযোগ আসে এসপি রিয়াজুল বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের আজীবন সদস্য। এ ঘটনা পুলিশ সদর দপ্তরের নজরে আসার পর গত ১৫ মে তাকে ১৬ মে’র মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়।

সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়