শিরোনাম
◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি ◈ ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় গালাগাল প্রসঙ্গে নেতানিয়াহুে এবার যা বললেন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের যে ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বি‌শ্বের নেতৃত্ব নি‌য়ে যুক্তরাস্ট্র, রা‌শিয়া ও চী‌নের ম‌ধ্যে রশি টানাটানি ◈ বিশ্বকাপের প্রস্তু‌তি, ফ্রান্স‌কে হারা‌লো আইভ‌রি কোস্ট, স্পেনকে রুখে দিলো ইরাক ◈ ৩০০ ফিটে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে যুবলীগ নেতা আটক ◈ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে আবারো তলিয়ে গেছে যাত্রীবাহী বাস (ভিডিও) ◈ নতুন সতর্কতায় ‘সুপার এল নিনো’, কোন সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব?

প্রকাশিত : ০৬ মে, ২০২৬, ০৬:১১ বিকাল
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জমির দাগ-খতিয়ান নম্বরসহ মৌলিক বিষয় বুঝবেন যেভাবে

জমির দাগ-খতিয়ান নম্বরসহ মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি।

এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

১. জমির দাগ-খতিয়ান নম্বরসহ মৌলিক বিষয় বুঝবেন যেভাবে

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, জমির হিসাব ও পরিচয় বোঝার জন্য প্রধান তিনটি বিষয় হলো—দাগ, খতিয়ান ও মৌজা।

দাগ নম্বর (প্লট নম্বর): ম্যাপ বা নকশায় প্রতিটি খণ্ড জমিকে আলাদাভাবে চেনার জন্য যে নম্বর দেওয়া হয়, তাকে দাগ নম্বর বলে। একটি মৌজার অধীনে আপনার জমিটি ঠিক কোন অবস্থানে এবং এর সীমানা কতটুকু, তা এই নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।

খতিয়ান (রেকর্ড অব রাইটস—আরওআর): খতিয়ান হলো জমির স্বত্ব বা মালিকানার সংক্ষিপ্ত বিবরণী, যেখানে একজন মালিকের মোট জমির বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। এতে মালিকের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা, দাগ নম্বর, জমির শ্রেণি (নাল, ভিটি, ডোবা ইত্যাদি), অংশ (শেয়ার) এবং বাৎসরিক খাজনার পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত থাকে।

খতিয়ানের প্রকারভেদ: সাধারণত সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে), এসএ (স্টেট অ্যাকুইজিশন সার্ভে), আরএস (রিভিশনাল সার্ভে), বর্তমানে বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিটি জরিপ খতিয়ান পাওয়া যায়।

মৌজা: মৌজা হলো রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা, যার প্রতিটির একটি নির্দিষ্ট জেএল (জুরিসডিকশন লিস্ট নম্বর) থাকে।

২. জমির দাগ-খতিয়ান নম্বরসহ মৌলিক বিষয় সম্পর্কে না জানলে কী সমস্যা হতে পারে

দাগ-খতিয়ান সম্পর্কে অজ্ঞতার ঝুঁকি: জমির দাগ-খতিয়ান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে আপনি নানা ধরনের আইনি ও আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। জমি কেনার সময় বিক্রেতা আসলে ওই জমির প্রকৃত মালিক কি না, তা যাচাই করার একমাত্র উপায় খতিয়ান।

দাগ নম্বর না জানলে আপনি হয়তো এক জমি দেখে অন্য জমি রেজিস্ট্রি করে নিচ্ছেন, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের জালিয়াতির কারণ হতে পারে। মালিকানা স্বত্বে জটিলতা খতিয়ানে যদি পূর্ববর্তী মালিকদের নামের ধারাবাহিকতা (চেইন অব ওনারশিপ) ঠিক না থাকে, তবে আপনার মালিকানা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এমনকি টাকা দিয়ে জমি কেনার পরও আপনি জমির দখল না-ও পেতে পারেন।

সীমানা বিরোধ ও মামলা: দাগ নম্বর এবং নকশা (ম্যাপ) সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে প্রতিবেশী বা অন্য কেউ আপনার জমির সীমানা দখল করে নিতে পারে। সঠিক দাগ নম্বর জানা না থাকলে আদালতে বা ভূমি অফিসে অভিযোগ করা বা আইনি প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

খাজনা ও সরকারি সেবায় বাধা: সরকারি খাজনা প্রদান, নামজারি (মিউটেশন) কিংবা ব্যাংক থেকে জমির বিপরীতে ঋণ নিতে গেলে সঠিক খতিয়ান ও দাগ নম্বর প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। এগুলো ছাড়া কোনো বৈধ লেনদেন করা সম্ভব নয়।

জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ: ভবিষ্যতে সরকার যদি কোনো কারণে ওই জমি অধিগ্রহণ করে, তবে সঠিক দাগ, খতিয়ান না থাকলে আপনি ক্ষতিপূরণের টাকা দাবি করতে পারবেন না।

৩. জমি কেনার আগে দাগ-খতিয়ান কীভাবে যাচাই করবেন?

জমি কেনার আগে ভূমি অফিস বা অনলাইন থেকে খতিয়ান সংগ্রহ করে মালিকের নাম, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ মিলিয়ে দেখতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে জমির দখল ও সীমানা নিশ্চিত করা জরুরি।

৪. দাগ-খতিয়ান সংক্রান্ত সমস্যায় আইনি প্রতিকার কী

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, খতিয়ানে ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করা যায়। নামজারি জটিলতায় আপিল করা যায়। মালিকানা বিরোধ হলে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হয় এবং প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট করা যায়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়