শিরোনাম
◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি ◈ ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় গালাগাল প্রসঙ্গে নেতানিয়াহুে এবার যা বললেন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের যে ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র ◈ বি‌শ্বের নেতৃত্ব নি‌য়ে যুক্তরাস্ট্র, রা‌শিয়া ও চী‌নের ম‌ধ্যে রশি টানাটানি ◈ বিশ্বকাপের প্রস্তু‌তি, ফ্রান্স‌কে হারা‌লো আইভ‌রি কোস্ট, স্পেনকে রুখে দিলো ইরাক ◈ ৩০০ ফিটে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে যুবলীগ নেতা আটক ◈ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে আবারো তলিয়ে গেছে যাত্রীবাহী বাস (ভিডিও) ◈ নতুন সতর্কতায় ‘সুপার এল নিনো’, কোন সংকটে পড়তে পারে বিশ্ব?

প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:২৭ বিকাল
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে অচল বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিমানবন্দরগুলো পুনরায় সচল করার উদ্যোগ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অচল বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিমানবন্দরগুলো পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বেবিচকের বোর্ডসভায় এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার এবং অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের কয়েকটি বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর উল্লেখযোগ্য। এসব বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হলেও দেশের অনেক সম্ভাবনাময়.

অঞ্চল এখনো বিমান যোগাযোগ সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। ফলে সেসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পর্যটন সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটে বোর্ডসভায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত অচল বা পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সদস্যরা জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঈশ্বরদী এবং কুমিল্লা বিমানবন্দর উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে থাকার কারণে এসব অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ ছাড়া স্বাধীনতার পর নির্মিত বগুড়া স্টলপোর্ট এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন শমশেরনগর বিমানবন্দর বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ব্যবহার করছে। অন্যদিকে বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর এবং পটুয়াখালী স্টলপোর্টও দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা গেলে দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বর্তমানে সচল বিমানবন্দরগুলো ছাড়াও বাকি বিমানবন্দরগুলোর উপযোগিতা যাচাই করে ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম, পর্যটন সম্ভাবনা এবং যোগাযোগ সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে কোন বিমানবন্দর আগে চালু করা হবে তা নির্ধারণ করা হবে।

অগ্রাধিকার তালিকায় যেসব বিমানবন্দর রাখা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বগুড়া, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, খানজাহান আলী, কুমিল্লা এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দর। এসব অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়েই তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান আমাদের সময়কে বলেন, সম্প্রতি এক সভায় ৮টি বিমানবন্দর সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিমানবন্দরগুলোয় বাণিজ্যিক বিমান পরিচালনায় উপযোগী কিনা সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। পরে একটি প্রস্তাব বিমান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন সাপেক্ষে সচলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় উপস্থিত সদস্যরা বলেন, এসব বিমানবন্দর চালু করা গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকায় বিমান যোগাযোগ চালু হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ধরনের আর্থিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এ জন্য সরকারের বাজেট বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও লাভ বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়