ত্বকের কালোদাগ দূর করার জন্য আলুর রস বহুদিন ধরে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। তবে চুলের যত্নেও আলুর রস চুলের অত্যন্ত উপকারী। শুষ্কতা, দূষণ, মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেই চুল ঝরার ভোগান্তিতে পড়েন। এ অবস্থায় প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নিতে চাইলে আলুর রস একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে জানিয়েছেন সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞরা। ত্বকের কালোদাগ দূর করতে ব্যবহৃত আলুর রস চুলের গোড়া মজবুত করা থেকে শুরু করে নতুন চুল গজানো পর্যন্ত নানা উপকার দেয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আলুর রসে থাকা পটাসিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়। এতে চুলের গোড়া পুষ্টি পায় এবং ফলিকল মজবুত হয়। এছাড়া এতে থাকা স্টার্চ চুলকে নরম ও মসৃণ রাখতে সহায়তা করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
দুটি মাঝারি আলু খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে কাপড়ে ছেঁকে রস বের করে নিতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আঙুলের সাহায্যে রসটি মাথার ত্বক ও চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। চাইলে এতে কয়েক ফোঁটা নারিকেল তেল মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়।
সাধারণ চুলের জন্য সপ্তাহে একবার এবং শুষ্ক বা ভাঙা চুলের জন্য সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার উপযোগী বলে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আলুর রসের সঙ্গে অল্প লেবুর রস মিশিয়েও ব্যবহার করা যেতে পারে।
নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে যে মিশ্রণ
নতুন চুল গজানোর জন্য আলুর রস, একটি ডিমের কুসুম ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে শ্যাম্পু করা চুলে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যায়।
চুল পড়া রোধে আলু–পেঁয়াজের রসের মিশ্রণ
চুল পড়া কমাতে আলুর রসের পাশাপাশি পেঁয়াজের রসও কার্যকর। পাঁচ চামচ আলুর রসের সঙ্গে সমপরিমাণ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগালে ফলিকল মজবুত হয় এবং চুল পড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এতে চাইলে নারিকেল তেলও যোগ করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলুর রস চুলের যত্নে এক প্রাকৃতিক, সাশ্রয়ী ও কার্যকর উপায়, যা গোড়া মজবুত করে, চুল পড়া কমায় এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।
সূত্র: দৈনিক জনকন্ঠ