ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি চালু হওয়ার পর ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এই আইনের ফলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীদের শনাক্ত, আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
অবশেষে কার্যকর হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন আশ্রয়নীতি বা নতুন অ্যাসাইলাম ও মাইগ্রেশন প্যাক্ট সব সদস্যরাষ্ট্রে কার্যকর হয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে অনুমোদিত এই প্যাক্টের মাধ্যমে ইইউর আশ্রয় ও অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বিত এই নীতির আওতায় ইউরোপের বাইরে থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তা স্ক্রিনিং করা হবে। আরও কঠোর করা হয়েছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও।
ভূমধ্যসাগর হয়ে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর প্রধান প্রবেশপথ ইতালি। দেশটি এতদিন মানবিক কারণে বহু অভিবাসীকে আশ্রয় দিলেও নতুন নীতির পর সেই সুযোগ সীমিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
লিবর্নোর মেয়র লুকা সালভেত্তি বলেন, সমুদ্রপথে আসা অনেককেই তারা আশ্রয় দিয়েছেন, তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তিনি আরও বলেন, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য লিবর্নো সবসময়ই উন্মুক্ত ছিল। আমরা বহু মানুষকে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে আসতে পারে।
ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশে এখন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বৈধ প্রক্রিয়ায় অভিবাসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের বহিষ্কার সিদ্ধান্ত অন্য দেশগুলোও মানবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ জুন পর্যন্ত শুধু ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন ৩ হাজার ৮৯৯ বাংলাদেশি।