শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ দেখা যা‌বে সর্বনিম্ম ২০০ টাকায়  ◈ ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৫ দেশ: আগামী ৫০ বছরে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ◈ আপা ডাকায় নয়, পুরোনো বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি: সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ◈ শার্শায় আইনজীবী মিন্টুকে গ্রেফতারচেষ্টা, গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ পুলিশ ◈ বিদেশি বিনিয়োগ আনা বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করবে সরকার ◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:৩০ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মোদির ইসরায়েল সফর সম্পর্কে যা জানা জরুরি

আল–জাজিরা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় ইসরায়েল সফরকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়, বরং ভারত–ইসরায়েল সম্পর্কের গভীরতা, প্রতীকী গুরুত্ব ও কৌশলগত অবস্থানেরই প্রতিফলন।

‘আমরা ভূমধ্যসাগরের জলে একসঙ্গে হেঁটেছি। তারপর থেকে ভূমধ্যসাগর, গঙ্গা ও জর্ডানে অনেক জল গড়িয়েছে—যদিও জর্ডানে কিছুটা কম।’

২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের প্রসঙ্গ টেনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এভাবেই নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা তুলে ধরেন। ওই সফরেই পানি, কৃষি ও প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আনুষ্ঠানিক রূপ পায় এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বুধবার দুই দিনের সফরে আবারও ইসরায়েলে পৌঁছান মোদি। নেতানিয়াহু এই সম্পর্ককে আখ্যা দেন ‘বিশেষ সম্পর্ক’ হিসেবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এবারের সফর সেই ঘনিষ্ঠতাকেই আরও দৃশ্যমান করেছে।

তেল আবিবে অবতরণের পর দুই নেতার উষ্ণ আলিঙ্গন, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ এবং নেতানিয়াহুর স্ত্রীর ভারতের পতাকার রঙের পোশাক—সব মিলিয়ে সফরটি ছিল বন্ধুত্বের এক পরিকল্পিত প্রদর্শন।

এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। গাজায় যুদ্ধ চলমান, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুও আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে রয়েছেন।

তাহলে কেন এই সফর? আর এর তাৎপর্যই বা কী?

মোদি কেন ইসরায়েল যাচ্ছেন?

গত আড়াই বছর ধরে ভারত সরকার ইসরায়েলের পাশে অবস্থান নিয়েছে—শ্রম, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর নেতানিয়াহুকে ফোন করা প্রথম বিশ্বনেতাদের একজন ছিলেন মোদি। এতে স্পষ্ট হয়, ভারত ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানায়।

নেতানিয়াহুর মতে, ধারাবাহিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা এখন আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে—অর্থনীতি, কূটনীতি ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই।

এই সফর নেতানিয়াহুর জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনের বার্তা বহন করছে, অন্যদিকে মোদির জন্যও এটি বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সুযোগ।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মোদি নেসেটে ভাষণ দেবেন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং হলোকাস্ট স্মৃতি জাদুঘর ইয়াদ ভাশেম পরিদর্শন করবেন।

তবে তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীর বা গাজা সফর করবেন না। গাজা যুদ্ধ বা পশ্চিম তীরে ভূমি নিবন্ধন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে—এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই।

এটি মোদি সরকারের তথাকথিত ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির প্রতিফলন, যেখানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে আলাদা কূটনৈতিক কাঠামোয় দেখা হয়। যদিও সমালোচকদের মতে, এতে ভারতের ঘোষিত দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের অবস্থান দুর্বল হয়েছে।

সফরের মূল ফোকাস কী?

মোদির আমলে ভারত–ইসরায়েল সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতের ইসরায়েলি অস্ত্র ক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, নজরদারি প্রযুক্তি ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামে ভারত অন্যতম বড় ক্রেতা।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় সামরিক উৎপাদনের দেশীয়করণে ইসরায়েলের প্রযুক্তি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখন কেবল আমদানি নয়, যৌথ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দুই দেশ এগোচ্ছে।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার দাবি জোরালো হলেও, দিল্লি ও তেল আবিব দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের দিকেই অগ্রসর হয়েছে।

সম্প্রতি বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলারও একটি কৌশল।

আলোচনায় গোয়েন্দা সহযোগিতা, অস্ত্র উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও কথা হতে পারে। হাই-টেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

যদিও বড় কোনো নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্ভাবনা কম, একটি সমঝোতা স্মারক দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে পারে।

ইরান প্রসঙ্গ

ইরান ইস্যু সরাসরি আলোচনায় থাকবে কি না, তা পরিষ্কার নয়। তবে বৃহত্তর আঞ্চলিক জোট গঠনের ধারণা—যেখানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়।

ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরের ধারণাও এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভারতে প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলে মোদির উষ্ণ অভ্যর্থনা তার সমর্থকদের কাছে আন্তর্জাতিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হবে। তবে দেশে সমালোচনাও রয়েছে। ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও সফর ঘোষণার পর স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সব মিলিয়ে, মোদির এই সফর কেবল একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি এক গভীর ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের বহিঃপ্রকাশ, যার প্রভাব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়