শিরোনাম
◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট : ১৮ মে, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শীতে জয়েন্টের ব্যথা বাড়লে কী করবেন? সহজ সমাধান দিলেন বিশেষজ্ঞরা

দেশজুড়ে পুরোদমে শীত। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে অনেক মানুষ হাত–পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, জয়েন্ট ব্যথা, পেশিতে টান বা শক্তভাবের সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গ শীতের স্বাভাবিক শরীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া; তবে যাদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস, গেঁটেবাত বা স্নায়ুর সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে।

ব্যথা কেন শীতে বাড়ে?

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শীতের সময় শরীর তাপ ধরে রাখতে রক্তনালী সংকুচিত হয়। এতে হাত–পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। ফলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে। জয়েন্টের ভেতরে থাকা সিনোভিয়াল ফ্লুইড বা লুব্রিকেন্টও ঠান্ডায় ঘন হয়ে যায়, যা জয়েন্টের নড়াচড়া কমিয়ে দেয়। এ কারণে হাঁটু, কোমর, আঙুল বা কাঁধে ব্যথা অনুভূত হয়।

শুধু তাই নয়, ঠান্ডায় পেশিতে চাপ বাড়ে এবং স্নায়ুগুলো ব্যথার সিগন্যাল বেশি তীব্রভাবে পাঠায়। তাই আগে থেকেই যাদের আর্থ্রাইটিস বা নিউরোলজিক্যাল সমস্যা আছে, তাদের ব্যথা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে।

সমাধানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো— শরীর গরম রাখা। মোজা, গ্লাভস, থার্মাল পোশাক ও মাথা ঢেকে রাখলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং ব্যথা কমে। ঘরে নিরাপদ দূরত্বে হিটার ব্যবহার বা গরম পানি দিয়ে হাত–পায়ে সেক দেওয়া বেশ কার্যকর।

প্রতিদিন ১০–২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করাও উপকারী। এতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং জয়েন্টের লুব্রিকেন্ট স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি শরীর পর্যাপ্ত পানি না পেলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে— তাই শীতেও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও চোখ রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। মাছ, ডিম, কলা, বাদাম, ফ্ল্যাক্সসিড ও রোদে অল্প সময় থাকা—এসব উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং জয়েন্টকে নমনীয় রাখে।

যখন ওষুধ প্রয়োজন?

ব্যথা বেশি হলে প্যারাসিটামল বা চিকিৎসকের পরামর্শে ইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রক্সেন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন— নিজে থেকে অতিরিক্ত ব্যথানাশক খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

চিকিৎসকের কাছে যাবেন কখন?

নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

> ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে

> জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে গেলে

> জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে

> হাত–পা অসাড় বা দুর্বল হয়ে গেলে

> আগে থেকে আর্থ্রাইটিস বা ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীদের ব্যথা বেড়ে গেলে

গুজব নয়, দরকার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান

চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দেন— শীতে ব্যথা বাড়লেও এটা ‘ঠান্ডা লাগার কারণে বাত হয়’— এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। একইভাবে ভেষজ তেল, ঝাড়ফুঁক অথবা অ্যান্টিবায়োটিক— কোনোটিই এই সমস্যার সমাধান নয়।

যতই বাড়ুক শীত, সঠিক সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে চললে হাত–পা ও জয়েন্টের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়