শিরোনাম

প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৬, ০৮:৪০ রাত
আপডেট : ১২ জুন, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ক্যান্সার ও কিডনিসহ ৬ জটিল রোগে দরিদ্রদের এককালীন আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে এসব জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই সহায়তা বছরে এক বার প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের 'হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম'-এর মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অর্থের অভাবে এসব জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এতে রোগীরা যেমন চরম ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। দরিদ্র রোগীদের কল্যাণে পরিচালিত এই মানবিক কর্মসূচিটি বিভিন্ন মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

'গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা' প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটের এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের ৫৫তম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে দুপুরে বাজেট প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। সরকারের এই নতুন বাজেট আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়