শিরোনাম
◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৬ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় পেট্রোবাংলা

মনজুর এ আজিজ: ডব্লিউপিপিএফ (শ্রমিকদের লভ্যাংশ অংশগ্রহণ তহবিল) কমানো এবং সঞ্চালন পাইপের খরচসহ মডেল পিএসসি-২০২৩ আপডেট করা হয়েছে। সরকার চাইলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক। তিনি আরও বলেছেন, ডব্লিউপিপিএফ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া পাইপলাইলাইনের খরচ ইস্যুর সমাধান করা হয়েছে। আমরা প্রস্তুত আছি, সরকার চাইলেই দরপত্র আহ্বান করার জন্য।

মডেল পিএসসি-২০২৩ (উৎপাদন ও বন্টন চুক্তি) এর আলোকে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য ২০২৪ সালের মার্চে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কোম্পানি এক্সনমবিল ও শেভরন, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস, নরওয়ে ও ফ্রান্সের যৌথ কোম্পানি টিজিএস অ্যান্ড স্লামবার্জার, জাপানের ইনপেক্স করপোরেশন ও জোগম্যাক, চীনের সিনুক, সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জি এবং ভারতের ও এনজিসি আগ্রহ প্রকাশ করে বিভিন্ন সময় পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

এর মধ্যে সমুদ্রে বহুমাত্রিক জরিপের তথ্য কিনেছিল শেভরন, এক্সনমবিল, ইনপেক্স, সিনুক ও জোগোম্যাক। ৬টি কোম্পানি দরপত্র গ্রহণ করলেও শেষ পর্যন্ত দরপত্র জমাদান থেকে বিরত থাকে। কারণ জানতে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয় কোম্পানিগুলোকে। তারা গভীর সমুদ্র থেকে স্থলভাগ পর্যন্ত পাইপলাইনের খরচ, ডব্লিউপিপিএফ এবং গ্যাসের দাম নিয়ে আপত্তির কথা জানায়।

অন্যদিকে চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল কর্পোরেশন (সিএনওওসি) তার জবাবে লিখেছে, পেট্রোবাংলার ডাটা বিক্রির জন্য যে প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করেছিল, তার দর অনেক বেশি ছিল। অনুসন্ধান কমিটি তার সুপারিশে অপর্যাপ্ত ডাটার কথা উল্লেখ করেছে বলে জানা গেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাগরে ১২ হাজার লাইন কিলোমিটার মাল্টিক্ল্যায়েন্ট সার্ভের ডাটা রয়েছে। অবশিষ্ট ২৩ হাজার কিলোমিটার ২ডি সার্ভের করা গেলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে আকর্ষণীয় হবে।

ওই রিপোর্ট পাওয়ার পর মডেল পিএসসি-২০২৩ আপডেট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের মডেল পিএসসি প্রণয়নের মতোই আপডেটের সময়েও কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। অতীতে পিএসসি প্রণয়নের সময় খসড়া উন্মুক্ত করে জনগণের মতামত নেওয়া হতো।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, পয়সা দেবো আমরা (ভোক্তা) আমাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে না কেনো! এই ইজারা নিয়ে জন্ম থেকেই জ্বলছি। আন্তর্জাতিক আদালতে ২০১২ সালে মিয়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সাগর সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর সর্বমোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারের বেশি সমুদ্র অঞ্চলের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের।

পাশের অংশ থেকে মায়ানমার দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস উত্তোলন করছে। যে কারণে বাংলাদেশে গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল বিবেচনা করা হয়।সেই সম্ভাবনাময় সাগরাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের চুড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বিগত সরকার। যে কারণে অধরাই থেকে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় জলরাশি।

গভীর সমুদ্রে ১৫টি এবং অগভীর সমুদ্রে ১১টি ব্লক আছে। ২০০৮ সালে ডিএস-১০ ও ডিএস-১১ জন্য আমেরিকান কোম্পানি কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। কনোকো গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিসহ কিছু শর্ত সংশোধনের আবেদন করে। বাংলাদেশ সেই শর্তে সাড়া না দিলে ২০১৪ সালে ছেড়ে চলে যায়। অন্যদিকে অফসোর বিডিং রাউন্ড ২০১২ আওতায় ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেড এসএস-৪ ও এসএস-৯ এর চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।

ওএনজিসি ভিদেশ কাঞ্চন-১ কূপ খনন করেছে, আরও দু’টি অনুসন্ধান কূপ খনন করবে। ২০১৭ সালে এসএস-১২ ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি পসকো দাইয়ুর সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। ২০২০ সালে ব্লক ফেল চলে যায় পসকো দাইয়ু। ২০২৪ সালের আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এরপর ২০১৯ সালে পিএসসি আপডেট করা হলেও দরপত্র ডাকা হয়নি। কয়েক মাসের কাজ পিএসসি আপডেট করতেই ৫ বছর সময় পার করে দেয়।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তোলার জন্য অনেক জায়গায় ছাড় দেওয়া নতুন পিএসসি-২০২৩ চুড়ান্ত করা হয়। প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ধরা হয়েছে ব্রেন্ট ক্রডের ১০ শতাংশ দরের সমান। যা আগের পিএসসিতে যথাক্রমে অগভীর ও গভীর সমুদ্রে ৫.৬ ডলার ও ৭.২৫ ডলার স্থির দর ছিল।

মডেল পিএসসি ২০০৮ প্রণয়ন কমিটির প্রধান মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, অনেকে মনে করেছিলেন গ্যাসের দাম বাড়ালেই কোম্পানিগুলো দৌড়ে আসবে। সেই ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কেনো জমা হয়নি সেটা তালাশ করার পাশাপাশি কেনো মাত্র ৭টি কোম্পানি দরপত্র কিনেছে সেটাও দেখা দরকার ছিল।

পিএসসিতে শর্ত দেওয়া হয়েছে দৈনিক ২০ হাজার ব্যারেল (তেলের সমান) গ্যাস উত্তোলন করে এমন কোম্পানি দরপত্র কিনতে পারবে। এখানেইতো অনেক কোম্পানি বাদ পড়ে গেছে। আমি মনে করি গভীর সমুদ্রের ক্ষেত্রে ১০ হাজার এবং অগভীর সমুদ্রের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ব্যারেল হওয়া উচিত। তাহলে আরও অনেক বেশি কোম্পানি অংশ নিতে পারবে।

তিনি বলেন, আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে ডাটা প্যাকেজের দাম অনেক বেশি। কোন কোন প্যাকেজের দাম মিলিয়ন ডলারের মতো। অন্য দেশে এসব ডাটা ফ্রি দেয়। ১৯৭৪ সালে আমাদের দেশে এসব ডাটা উন্মুক্ত ছিলো, তখন অনেক বেশি কোম্পানি অংশ নিয়েছিলো।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশে ৮টি গ্রাহক শ্রেণিতে দৈনিক অনুমোদিত লোড রয়েছে ৫ হাজার ৩৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট, প্রকৃত চাহিদা ধারণা করা হয় ৩৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এক সময় দেশীয় গ্যাস ফিল্ডে ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতো। মজুদ কমে আসায় উৎপাদন ১৭০০ মিলিয়নে নেমে এসেছে। ঘাটতি মোকাবিলায় ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ।

বেশি চিন্তার হচ্ছে প্রতিনিয়ত কমছে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন, অন্যদিকে বাড়ন্ত রয়েছে চাহিদা। দেশের গ্যাস সংকটের অন্যতম কারণ বিবেচনা করা হয় অনুসন্ধানে স্থবিরতাকে। উৎপাদন বাড়ানো থাকল দুরের কথা বর্তমান উৎপাদন ১৭০০ মিলিয়ন অব্যাহত রাখাই কঠিন মনে করা হচ্ছে। একমাত্র ভরসা হচ্ছে গভীর সমুদ্র, সেখানে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে খাদের কিনারে থাকা জ্বালানি খাতে মহা বিপজ্জয়ের শঙ্কা দেখছেন অনেকেই।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়