জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) জানায়, এসব দেশ ও অর্থনীতির পদক্ষেপকে তারা ‘অযৌক্তিক’ এবং মার্কিন বাণিজ্যের জন্য প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচনা করছে।
তদন্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদাররা। ইউএসটিআরের তথ্য অনুযায়ী, এসব অর্থনীতি মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ শতাংশেরও বেশি অংশ আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় পরিচালিত তদন্তে দেখা গেছে, অনেক দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি বন্ধে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। এর ভিত্তিতেই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে অন্যায্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পায়, যা মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর।
প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, সামুদ্রিক খাদ্য ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এ প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ ও শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তদন্তাধীন বাকি ৪৫টি দেশের ওপর অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।