শিরোনাম
◈ বিদেশি বিনিয়োগ আনা বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করবে সরকার ◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬, ০৬:২০ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভোজ্য তেলের আমদানি কমাতে বাড়াতে হবে সূর্যমুখী চাষ

সূর্যমুখী চাষ বাড়ানো গেলে দেশের ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, লবণাক্ত উপকূলীয় জমিতে এ ফসলের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় কৃষকদের আগ্রহ কমছে। বরগুনা এখনো দেশের মধ্যে সূর্যমুখী চাষে শীর্ষে থাকলেও গত কয়েক বছরে এ ফসলের আবাদ ধারাবাহিকভাবে কমছে।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে জেলায় ৯ হাজার ২৪৪ জন কৃষক ২ হাজার ২৭২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন। ওই বছর উৎপাদন হয় ৩ হাজার ৪৮০ টন। ২০২২ সালে আবাদ কিছুটা বেড়ে ২ হাজার ৭৫৩ হেক্টরে দাঁড়ায়। সে বছর উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ১৭১ টন হয়। ২০২৩ সালে সূর্যমুখী চাষ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই বছর জেলায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয় এবং উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৮ হাজার ৫৯ টনে পৌঁছে। তবে ২০২৩ সালের পর থেকে চিত্র বদলাতে থাকে। ২০২৪ সালে আবাদ কমে ৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টরে নেমে আসে এবং উৎপাদন দাঁড়ায় ৬ হাজার ৫২৯ টন। ২০২৫ সালেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ওই বছর আবাদ আরও কমে ৩ হাজার ৩৭৬ হেক্টরে নেমে আসে এবং উৎপাদন হয় ৬ হাজার ২৪৬ টন। চলতি বছরে পরিস্থিতি আরও নিম্নমুখী হয়ে ৩ হাজার ২০২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে বলে কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, বাজারজাতকরণ সংকট, মানসম্মত বীজের অভাব এবং বীজ আলাদা করার যন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণে তারা এ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অনেকের মতে, উৎপাদন ভালো হলেও বিক্রির নিশ্চয়তা না থাকায় লোকসানের ঝুঁকি থাকে।

তালতলীর কৃষক নাঈম হোসেন বললেন, ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লাভ হয়নি। সরকার সরাসরি বীজ কিনলে তারা আবার চাষে ফিরবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরেক কৃষক আব্দুর রব জানালেন, সূর্যমুখীর বীজ আলাদা করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় যন্ত্রের অভাবে খরচ বেড়ে যায়। ঠংপাড়ার কৃষক বায়জিদ উল্লেখ করেন, ভালো মানের বীজ না পাওয়ায় ফলন কমে যাওয়ায় তিনি চাষ বন্ধ করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সূর্যমুখী থেকে তুলনামূলক বেশি তেল পাওয়া যায় এবং এটি কম সেচ ও কম রাসায়নিক সারেই ভালো ফলন দেয়। ফলে এটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব ফসল হিসেবে বিবেচিত।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচারাল বোটানি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাইয়ুমের ভাষ্য, ‘বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, নিম্নমানের বীজ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবই চাষ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। তিনি সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উৎসাহ বাড়াতে কার্যকর বাজার ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’

‘এসব বিষয় নিয়ে সরকারকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তাহলে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক সমৃদ্ধি আসবে এবং ভোজ্য তেলের আমদানি-নির্ভরতা অনেকাংশে কমানো যাবে’— যোগ করেন এ অধ্যাপক।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানিয়েছেন, আবাদ কিছুটা কমলেও বরগুনা এখনো সূর্যমুখী চাষে দেশের শীর্ষ অবস্থানে। কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তালতলীতে ভর্তুকিতে তেল উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আগামীর সময়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়