আজিজুল ইসলাম, বাঘারপাড়া: শীতের আগমনী বার্তা ধীরে ধীরে ঘনিয়ে আসতেই যশোরের বাঘারপাড়ায় জমে উঠেছে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। দড়ি, দা, ঠুঙ্গিসহ গাছে ওঠার সরঞ্জাম নিয়ে তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেজুরগাছ কেটে ও পরিষ্কার করে প্রস্তুত করছেন রস সংগ্রহের জন্য।
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে গুড় উৎপাদন। এই মৌসুমে বাঘারপাড়াজুড়ে কয়েক হাজার গাছি মাঠে-ঘাটে খেজুরগাছ কাটার কাজে নেমে পড়েছেন।
রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার ধারে ও জমির আইলে সারি সারি খেজুরগাছের মাথা ছাঁটছেন গাছিরা। দ্রুত এক গাছ থেকে অন্য গাছে ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা—স্পষ্ট বোঝা যায় গাছিদের মৌসুমি ব্যস্ততা।
নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের গাছি শহিদুল সর্দার জানান, “আমরা খেজুরগাছ কাটা শুরু করেছি। যশোরের খেজুর রস, গুড় আর পাটালির জন্য আমরা গর্ব করি।”
বন্দবিলা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের আরেক গাছি বলেন, “আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই রস বের হবে। গতবছরের তুলনায় এবার বেশি গাছ কেটেছি। ঐতিহ্যবাহী গুড়-পাটালি তৈরি করে বাজারে বিক্রি করব। আশা করি ভালো লাভ হবে।”
বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খেজুরের গুড় জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার রস আহরণযোগ্য খেজুরগাছ রয়েছে। এখান থেকে প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষি অফিস আরও জানায়, এই গুড় যেন ভেজালমুক্ত থাকে—সেজন্য প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ পুরো মৌসুমেই তদারকি করবে।