শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই

প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৯:৪৯ সকাল
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০১:৫১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিভে যাচ্ছে প্রকৃতির মায়াবী আলো, হারিয়ে যাচ্ছে জোনাকি

‘ঝুমকো লতায় জোনাকি—/ মাঝে মাঝে বৃষ্টি গো/ আবল তাবল বকে কে/ তারও চেয়ে মিষ্টি গো, মিষ্টি গো।’— জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ঝুমকো লতায় জোনাকি’ কবিতার এই মুগ্ধকর পঙ্‌ক্তিগুলোতেই ফুটে উঠেছে জোনাকি পোকার সৌন্দর্য ও মায়াবী উপস্থিতি। একসময় গোধূলি পেরিয়ে রাত নামলেই ঝোপঝাড়, বাঁশবাগান আর মাঠের আইলজুড়ে জ্বলে উঠত অসংখ্য জোনাকির মিটিমিটি আলো। মনে হতো, আকাশের তারারা বুঝি নেমে এসেছে মাটির বুকে। শৈশবের সেই বিস্ময়, কৌতূহল আর মুগ্ধতার সঙ্গী ছিল ছোট্ট এই আলোকবাহী পোকা। অন্ধকার রাতে প্রকৃতির বুকে নিজস্ব আলো ছড়িয়ে জোনাকি যেন নিঃশব্দে লিখে যেত সৌন্দর্যের এক অপূর্ব গল্প। কিন্তু সময়ের পালাবদলে সেই গল্প আজ ফিকে হতে বসেছে; যে জোনাকি একদিন রাতের প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলত, এখন তাকে খুঁজে পাওয়াই যেন কঠিন হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীজুড়েই দ্রুত কমে যাচ্ছে জোনাকির সংখ্যা, আর এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো প্রকৃতি থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে এই আলো ছড়ানো পতঙ্গ। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ এবং বিভিন্ন দেশের কীটতত্ত্ববিদদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের তৈরি কৃত্রিম আলোর দূষণ, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংসের কারণে জোনাকি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জোনাকির বেঁচে থাকা ও বংশবিস্তারের জন্য ভেজা মাটি, ঘন ঝোপঝাড় এবং বনাঞ্চল প্রয়োজন। কিন্তু দ্রুত নগরায়ণের ফলে এসব জায়গা প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাতের শহরে অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো জোনাকির স্বাভাবিক জীবনচক্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। নিজেদের আলো ব্যবহার করে সঙ্গী খুঁজে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া, কৃত্রিম আলোর কারণে সেটিই ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তাদের বংশবিস্তারও কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশেও জোনাকির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং পরিবেশ দূষণের কারণে দেশের অধিকাংশ এলাকায় এখন আর আগের মতো জোনাকি দেখা যায় না। বর্তমানে চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কিছু পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে সীমিত আকারে এদের অস্তিত্ব টিকে আছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জোনাকি শুধু একটি সুন্দর পোকা নয়, এটি প্রকৃতির পরিবেশগত ভারসাম্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এদের রক্ষায় বনভূমি সংরক্ষণ, কৃত্রিম আলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কীটনাশকের অপব্যবহার কমানো জরুরি।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী জোনাকিকে ইতোমধ্যে বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই প্রকৃতির এই মায়াবী আলো চিরতরে নিভে যাওয়ার আগেই সচেতন হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: আরটিভি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়