শিরোনাম
◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই ◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ ◈ ভূমি কর্মকর্তাদের ২৫ জুনের মধ্যে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়

প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬, ১০:৩২ দুপুর
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ অ্যাপে অনিয়মের অভিযোগ, নাগরিকের তথ্য ঠিকাদারের হাতে

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভান্ডারে থাকা নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য বিক্রির কেলেঙ্কারির রেশ এখনো কাটেনি। এরই তদন্ত চলাবস্থায় আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডামাডোলের আড়ালে এনআইডি তথ্যভান্ডারে থাকা নাগরিকদের ছবি ও ২৮টি ডেমোগ্রাফিক তথ্য বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নেওয়ার সুযোগ করে দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামের অ্যাপের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানোর নেপথ্যে এমন ঘটনাই ঘটিয়েছেন ইসির তথ্য-প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ইউজার আইডি ও এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) দিয়েছেন তারা। যেখানে চার ধরনের তথ্য দিয়েই ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানো সম্ভব ছিল, সেখানে নাগরিকদের ২৮ ধরনের তথ্য দেওয়ায় নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও নিরাপত্তা সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুগান্তরের অনুসন্ধান ও ইসির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, ওই আইডি ও এপিআই’র মাধ্যমে ইসির তথ্যভান্ডারে অস্বাভাবিক হিট করার পর হঠাৎ টনক নড়ে ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। বিষয়টি নিয়ে ভোটগ্রহণের আগের শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ছুটির দিনে ইসি সচিবের নেতৃত্বে তড়িঘড়ি করে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নাগরিকদের ২৮ ধরনের তথ্যের পরিবর্তে শুধু চার ধরনের তথ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ওই চার ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগেই ওই অ্যাপে এক কোটির বেশি হিট হয়। এর মাধ্যমে বিপুল নাগরিকের ছবি ও ২৮টি ডেমোগ্রাফিক তথ্য কপি করে নেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে ভোটার তথ্যভান্ডার স্পর্শকাতর হওয়ায় এবং সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছাড়া অন্যদের প্রবেশাধিকার না থাকায় কতসংখ্যক নাগরিকের তথ্য ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে গেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান অনেক চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব সার্ভারে নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষণ করেছে কি না-তাও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসির সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তারা একেক সময়ে একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তবে একটি সূত্রে ওই অ্যাপে মোট সাত কোটির বেশি হিট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এনআইডি তথ্যভান্ডারের আইটি অডিট করেনি ইসি। কোন সফটওয়্যারের সঙ্গে ইন্টিগ্রেট করা হয়েছে তা পরীক্ষা করা হয়নি। রহস্যজনক কারণে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

যুগান্তরের অনুসন্ধান পর্যায়ে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিতে ওই অ্যাপ পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘পেন্টা গ্লোবাল লিমিটেড’র কাছে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের তথ্য যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ-২) প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। সম্প্রতি ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদকে ওই চিঠি দিয়েছেন তিনি। চিঠিতে তিনি আরও আশঙ্কা করে বলেন, সংশ্লিষ্ট ওই প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষিত থাকতে পারে। সেবাটি প্রদান করার ক্ষেত্রে গুরুতর কারিগরি গাফিলতি দেখা যায় এবং যার কারণে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক ভোটারের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এসব বিষয় নিয়ে সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে যুগান্তরকে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানোর ফাইল অনুমোদন করেছি। তবে কীভাবে কোন প্রক্রিয়ায় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানো হয়েছে, সেটা কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তারা ভালো জানেন। নির্বাচনি কাজের চাপে এসব বিষয় দেখার সুযোগ আমাদের থাকে না। তিনি বিষয়টি নিয়ে ইসির সিনিয়র সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এরপর বিষয়টি নিয়ে গত ১৫ দিনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে ছয়বার আলাপ হয় এ প্রতিবেদকের। এ সময়ের মধ্যে তিনি বিষয়টি জানতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে বৈঠক করেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, অ্যাপ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রথমদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নাগরিকদের অনেক ধরনের তথ্য পাওয়ার সুযোগসংবলিত আইপি ও আইডি দেওয়া হয়েছে সত্য। ওই প্রতিষ্ঠানটি দুদিন টেস্ট ট্রায়ালও করেছে। তখন অনেকবার তথ্যভান্ডারে হিট হয়েছে। একপর্যায়ে যখন বিষয়টি আমার নজরে এসেছে, তখন সবার সঙ্গে বৈঠক করে শুধু নাগরিকদের চারটি তথ্য (ভোটার নম্বর, ভোটার সিরিয়াল নম্বর, লিঙ্গ ও জন্ম তারিখ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যাওয়া এবং ওইসব তথ্য সংরক্ষণ করেছে-এখন পর্যন্ত এমন তথ্য-উপাত্ত আমি পাইনি। সচিব বলেন, পুরো এনআইডি তথ্যভান্ডার ফরেনসিক করানো হবে। তখন এ বিষয়টি সেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি এনআইডি সিস্টেমের ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট (নিরাপত্তা ত্রুটি পরীক্ষা) করা হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে চারটি মাধ্যমে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার ব্যবস্থা করে দেয় ইসি। চারটি মাধ্যম হচ্ছে-নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, ১০৫ নম্বরে এসএমএস করে জানা, হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করে সরাসরি জানা এবং স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ।

নাগরিক তথ্য যায় যে প্রক্রিয়ায় : সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ’ সংগ্রহ করে। ওই অ্যাপ ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়। একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই অ্যাপ ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও ব্যবহার করা হয়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ’র মাধ্যমে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানোর বিষয়টি অনুমোদন দেয় ইসি। ওই অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভোটারদের ছবি ও ২৮টি ডেমোগ্রাফিক তথ্য পাওয়া যায়, এমন ডেডিকেটেড ইউজার আইডি (ইসিএসআইসিটিডব্লিউ) ও এপিআই ইসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অনুবিভাগকে (আইসিটি) দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের আইসিটি বিভাগ ওই ইউজার আইডি ও এপিআই পেন্টা গ্লোবালকে দেয়। এ কার্যক্রম পরিচালনার নেতৃত্বে ছিলেন সিনিয়র মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার বেগম ফারজানা আখতার ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইসিটি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হককে কিছুটা অকার্যকর করে তারই অধীনস্থ কর্মকর্তা বেগম ফারজানা আখতারকে নির্বাচনি কার্যক্রমে আইসিটিসংক্রান্ত কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব দেয় ইসি।

ওই অ্যাপ ব্যবহার করে কীভাবে ও কতসংখ্যক নাগরিকের তথ্য অনুসন্ধান করা হয়েছে, তার একটি চিত্র উঠে এসেছে আইডিইএ-২ প্রকল্পের পরিচালকের চিঠিতে। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেন্টা গ্লোবালকে যে ইউজার নেইম ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রের তথ্য সরবরাহের জন্য এপিআই দেওয়া হয়েছে, সে একই আইডি ইসির আরও তিনটি সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়। ওই সিস্টেম তিনটি হচ্ছে-ইসি সচিবালয়ের ওয়েব পোর্টাল, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন এবং স্মার্ট ইলেকশন বিডি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। একই প্রতিষ্ঠান কারিগরি সহায়তা প্রদান করায় কার্যত তারা সিস্টেমগুলোতে প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পেন্টা গ্লোবাল লোকাল ক্যাশ সার্ভার ও ক্লাউডভিত্তিক ক্যাশ সার্ভার ব্যবহার করেছে। এনআইডি ডাটা সেন্টারের সিস্টেম লগ অনুযায়ী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত (ভোটের দুই দিন আগ পর্যন্ত) এক কোটি ২০ লাখ ৮৭ হাজারবার ভোটকেন্দ্র অনুসন্ধান করা হয়। এই অ্যাপে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত কোটি ১২ লাখ ১২ হাজারবার তথ্য অনুসন্ধান করা হয়েছে। তার আশঙ্কা, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাগরিকের তথ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি সংরক্ষণ করতে পারে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পৃথক ইউজারনেইম ও এপিআই না দিয়ে ইসির কর্মকর্তাদের ব্যবহার করা ইউজারনেইম দেওয়া এবং তা মনিটরিং না করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করা হলেও আইডিইএ-২ প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার চিঠির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এ প্রকল্প পরিচালক বলেন, আমি যা বলার ইসি সচিবালয়কে বলেছি। তারা বিষয়টি দেখভাল করছেন। এর বেশি বলা সমীচীন হবে না।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন একাধিক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, ভোটার নম্বর, ভোটার সিরিয়াল নম্বর, জন্ম তারিখ ও লিঙ্গ-এই চার ধরনের তথ্য দিয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানানো সম্ভব। সেখানে ২৮ ধরনের তথ্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নির্বাচনের আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়। ভোটের আগে ৬ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে উপস্থিত টাইগার আইটির একজন কর্মকর্তাও তথ্য নিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। বৈঠকের পর আরও দুই-তিন দিন ওই ইউজারনেইম থেকে হিট অব্যাহত থাকায় একপর্যায়ে তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তোলপাড় শুরু হলে চার ধরনের তথ্য দিয়ে পুনরায় অ্যাপের সেবা চালু করা হয়।

একেক সময় একেক তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের : এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। বেগম ফারজানা আখতার ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। বেগম ফারজানা আখতার দাবি করেন, ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ’ ইসির কর্মকর্তারাই পরিচালনা করেছেন। এমনকি পুরো নির্বাচনে ওই অ্যাপে তিন কোটি আট লাখবার হিট হয়েছে। আইডিইএ-২ প্রকল্পের পরিচালক আশঙ্কা প্রকাশ করে যে চিঠি দিয়েছেন, সেটাও অসত্য বলে তিনি দাবি করেন। তবে বেগম ফারজানা আখতারের দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি এই অ্যাপ নির্মাণ ও পরিচালনায় যুক্ত সরকারের মালিকানাধীন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) নির্বাহী পরিচালক মো. জসিম উদ্দীন ও পেন্টা গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সাল জামানের বক্তব্যে। তারা উভয়েই যুগান্তরকে জানান, নির্বাচনে অ্যাপ পরিচালনায় তারা কারিগরি সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন।

এছাড়া ফারজানা আখতার দাবি করেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই অ্যাপে কোনো হিট হয়নি এবং ৫ ফেব্রুয়ারি এক লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ বার হিট হয়েছে। অপরদিকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ সূত্র জানিয়েছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯ লাখ ১০ হাজারবার এবং ৫ ফেব্রুয়ারি ৫৩ লাখ ৮ হাজারবার এই অ্যাপে তথ্য অনুসন্ধান করা হয়েছে। তবে তা টেস্ট ট্রায়াল (পরীক্ষামূলক) ছিল। ফারজানা আখতার আরও দাবি করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নাগরিকদের চার ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অবশ্য সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, ঠিকাদারকে নাগরিকদের আরও বেশি ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে কত ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে তা জানাননি তিনি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পেন্টা গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সাল জামান প্রথমে চার ধরনের তথ্য পাওয়ার কথা জানান। তাকে কিছু তথ্য-উপাত্ত জানানো হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি আমাদের প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভালো জানেন। তারাই ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তবে তিনি নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষণ করেননি বলে দাবি করেন।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়