স্পোর্টস ডেস্ক : মেক্সিকোয় চলমান সহিংসতা ঘিরে ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ অন্যত্র সরানো হতে পারে—এমন আলোচনা জোরালো হয়েছে। দেশজুড়ে মাদক চক্র–সংক্রান্ত সহিংসতার প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনে ম্যাচ সরানোর ক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকরা দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আর মাত্র ১০৪ দিন বাকি থাকতে দেশটির শীর্ষ মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস, যিনি ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত—প্রশাসনের হেফাজতে মৃত্যুবরণ করার পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। -- টি স্পোর্টস
সহিংসতার সূচনা জালিস্কো অঙ্গরাজ্যে, যার রাজধানী গুয়াদালাহারা। এই শহরের গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। মেক্সিকো সিটিতে হবে পাঁচটি এবং মনতেরেতে চারটি ম্যাচ।
নিরাপত্তা অভিযানের সময় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রশাসনের হেফাজতে মারা যান এল মেনচো। সেই অভিযানে জালিস্কো নবপ্রজন্ম মাদক চক্রের চার সদস্য নিহত হন এবং মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হন। এর জেরে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে চক্রের সদস্যরা। বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন দেওয়া ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রোববার সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন জাতীয় রক্ষীবাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই দিনে পুয়ের্তো ভালিয়ার্তা শহরের একটি কারাগার থেকে সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে ২৩ বন্দি পালিয়ে যায়। চলতি সপ্তাহজুড়ে সহিংসতা দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সব মিলিয়ে ৭৪ প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
সমর্থকদের উদ্বেগের মধ্যেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শুরুতে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, জালিস্কোর পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয়, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
বিশ্বকাপের ম্যাচ সরাতে কী শর্ত?
২০২৬ বিশ্বকাপের বিধিমালা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা সুরক্ষা–সংক্রান্ত উদ্বেগ কিংবা অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতির কারণে ফিফা তাদের একক বিবেচনায় একটি বা একাধিক ম্যাচ—এমনকি পুরো বিশ্বকাপ বাতিল, পুনর্নির্ধারণ বা অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে।
অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতি বলতে যুদ্ধ, বড় ধরনের অপরাধ বা এমন কোনো অপ্রত্যাশিত অবস্থা বোঝায়, যা চুক্তি অনুযায়ী আয়োজক দেশের পক্ষে দায়িত্ব পালন অসম্ভব করে তোলে। ক্রীড়া আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়োজক দেশ বা শহরের কাছ থেকে স্বাগতিকত্ব কেড়ে নেওয়া খুবই বিরল ঘটনা হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। তবে সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ও গুরুতর পরিস্থিতির স্পষ্ট যৌক্তিকতা দেখাতে হবে।
এই মুহূর্তে মেক্সিকোর কাছ থেকে বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ফিফা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেই আপাতত সীমাবদ্ধ রয়েছে সংস্থাটি।