স্পোর্টস ডেস্ক : লাল-সবুজের দল শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়ের দেখা পায়নি। তারপরেও দুই ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট (রেটিং পয়েন্ট +৪.০৭৯) নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ফলে বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৬ রানে হারলেও শীর্ষস্থান ধরে রেখে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের শেষ চার নিশ্চিত করেছে আকবর আলীর দল।
‘এ’ গ্রুপ থেকে শেষ চারের টিকিট কেটেছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। তিন ম্যাচে দুই জয়ে আকবর আলীদের পয়েন্ট ৪। রেটিং পয়েন্ট +২.৩২৩। তিন ম্যাচে দুই জয়ে সমান পয়েন্ট থাকা লঙ্কানদের রেটিং পয়েন্ট +০.৯৯৬।
‘বি’ গ্রুপ থেকে শীর্ষে পাকিস্তান। দ্বিতীয় স্থানে ভারত। গ্রুপ পর্বে একমাত্র পাকিস্তান তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতেছে। আর হংকং, চায়না ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সবগুলো ম্যাচ হেরেছে। -- টি স্পোর্টস
কাতারের রাজধানী দোহায় এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে আগে ব্যাটিং করে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। রান তাড়ায় নেমে ৬ রান দূরত্বে থামে বাংলাদেশের যাত্রা।
ম্যাচটির শেষ মুহূর্ত ছিল রোমাঞ্চে ভরা। শেষ ওভারে লাল-সবুজ দলের প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। প্রথম বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ তুলে দেন ইয়াসির আলী। ভাগ্যদেবীর সহায়তায় বেঁচে যান তিনি। এ বল থেকে এক রান আদায় করে বাংলাদেশ।
প্রান্ত বদলে মেহেরাব হোসেন আসেন স্ট্রাইকে। দারুণ স্কুপে রাত্নায়েকের বল ছক্কায় পরিণত করেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটার। ততক্ষণে দলের প্রয়োজন পড়ে দাঁড়ায় ১১ রান।
পরের পল হোয়াইট। সেখান থেকে দৌড়ে আরও একটি সিঙ্গেল যোগ করেন দুই ব্যাটার। প্রান্ত বদল হতেই দৃশ্যপট ম্যাড়মেড়ে হয়ে পড়ে। এ সময় একটি সিঙ্গেল আদায় করতে পারে বাংলাদেশ।
চতুর্থ বলে আবারও স্কুপ খেলার চেষ্টা করেন মেহেরাব। এবার ব্যর্থ হন তরুণ এই ব্যাটার। এক রান হয়ে ওঠে ভরসা। প্রান্ত বদলে পঞ্চম বলে ইয়াসির পৌঁছে অনস্ট্রাইকে। এ বলে দারুণ এক ইয়র্কার মারেন করুণারত্নে।
শেষ বলে বাংলাদেশের সমীকরণ দাঁড়ায়—ছক্কা হাঁকালে সুপার ওভারের সম্ভবনা। চার বা সিঙ্গেল-ডাবলসে হার। হারটাই মেনে নিতে হয়েছে বাংলাদেশ।
এদিন টস জিতে লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান আকবর। আগে ব্যাটিং করে সাহান আর্চারের দায়িত্বশীল ৬৯ রানের ওপর ভর করে ১৫৯ রানের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। তার সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন দুনিথ ভেল্লালাগে। ১৪ বলে ২৩ রান করেন তিনি।
জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের চার ব্যাটার দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করেন। বলার মতো কেউ স্ট্রাইক রেটে দাপট দেখাতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২৬ রান (২৩ বল) করেন জাওয়াদ আবরার। আকবর আলীও ব্যাট চালিয়েছেন দেখে শুনে, ২৬ বলে ২৫ রান করেন তিনি।
উপরের সারির ব্যাটারদের ধীর ব্যাটিংয়ে শেষ দিকের ব্যাটাররা পড়ে বিপদে। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে তাতে ১৮ রান। সমীকরণ মিলাতে ব্যর্থ হন ইয়াসির আলী ও মেহেরাব।