স্পোর্টস ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কলকাতা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়েছিল শুভমান গিলের। মুখোমুখি তৃতীয় বলেই দারুণ এক সুইপ শটে সাইমন হার্মারের বলে চার মেরেছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। কিন্তু এরপরই ঘটে বিপত্তি।
একদিকে বল সীমানা ছাড়া হচ্ছে, অন্যদিকে ঘাড়ের পেছনের দিকে হাত দিয়ে ব্যথায় কোঁকড়াতে থাকেন গিল। দ্রুতই ফিজিও মাঠে গিয়ে কিছুক্ষণ চেষ্টা চালান। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কলকাতার এক হাসপাতালে নেওয়া হয় গিলকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালে গিলকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। গিলের শারীরিক অবস্থার আপডেট জানিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা টেস্টে আর খেলা হবে না গিলের।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসপাতালে নেওয়ার পর শুরু থেকেই গিলকে আইসিইউতে রাখা হয়। তবে সেটা শুধু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আর পর্যবেক্ষণের জন্য। আজও ভারতীয় অধিনায়ককে হাসপাতালেই থাকতে হবে।
রেভস্পোর্টজের তথ্যানুযায়ী, গিলকে চিকিৎসক সপ্তর্ষি বসুর তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়েছে। ভারতীয় অধিনায়কের জন্য এরইমধ্যে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ওই বোর্ডে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ, নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট এবং কার্ডিওলজিস্ট রাখা হয়েছে। তারা গিলের শারীরিক অবস্থার প্রতিটি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিসিসিআই এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘কলকাতায় সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টেস্টের দ্বিতীয় দিনে অধিনায়ক শুভমান গিল ঘাড়ে চোট পান। দিনের খেলা শেষে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে আছেন। তিনি আর এই টেস্টে খেলতে পারবেন না। বিসিসিআই মেডিকেল টিম তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে।’
কলকাতা টেস্টের পর আগামী ২২ নভেম্বর থেকে গুয়াহাটিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে সাউথ আফ্রিকা-ভারত। ওই টেস্টে গিল ফিরতে পারবেন কিনা, সেটা নির্ভর করবে ভারতীয় অধিনায়ক কত দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, সেটার ওপর। টিম ম্যানেজমেন্ট প্রত্যাশা করছে, ওই টেস্টের আগেই সেরে উঠবেন গিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ চোট সিরিজের বাকি অংশে তার (গিল) খেলা নিয়েও শঙ্কা তৈরি করেছে। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট জানাচ্ছে যে, তার ফিটনেস নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হবে না। তার অনুপস্থিতি ভারতের নেতৃত্ব ও ব্যাটিং শক্তির ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।’
গিল ঘাড়ে হঠাৎ কেন এমন অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করলেন, এ প্রশ্নের জবাবে গতকাল দিনের শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ধারণার কথা জানিয়েছেন মরনে মরকেল। ভারতের বোলিং কোচ বলেছেন, ‘আমাদের প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে, ওর ঘাড় কীভাবে শক্ত হয়ে গেল। হয়তো ওর ঘুম ভালো হয়নি। ওয়ার্ক লোডের কারণে এটা হতে পারে বলে আমার মনে হয় না।’
মরকেল আরও যোগ করেন, ‘গিল খুবই ফিট ক্রিকেটার। ও খুব ভালোভাবে নিজের যত্ন নেয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আজ ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই ওর ঘাড় শক্ত হয়ে ছিলো আর ব্যথাটা সঙ্গে নিয়েই মাঠে নেমেছে। সময়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। ওই সময় ওকে ঘিরে আমাদের একটা জুটি গড়া দরকার ছিলো। সব মিলিয়ে এটা ছিল একটা বাজে টাইমিং।
উল্লেখ্য, কলকাতা টেস্টে প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫৯ রানের বিপরীতে ভারত ১৮৯ রান করেছে। ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা সাউথ আফ্রিকা ৭ উইকেটে ৯৩ রানে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছে। আজ তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হয়েছে এরই মধ্যে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় ৮ উইকেটে ১৫২ রানে ব্যাটিং করছে প্রোটিয়ারা। তাতে ১২২ রানের লিড পেয়েছে তারা।