স্পোর্টস ডেস্ক : দারুণ একটি ম্যাচ উপহার দিলো দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েরা। তাদের খেলা দেখে মনে হলো প্রতিশোধ বোধ হয় একেই বলে। নারী বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েদের ১০ উইকেটে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে তা কড়ায় গন্ডায় বুঝিয়ে দিলেন লরা উলভার্টরা। ন্যাট স্কাইভার-ব্রান্টদের বিপক্ষে ১২৫ রানে জিতে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালের টিকিট কেটেছে প্রোটিয়া মেয়েরা।
ভারতের গুয়াহাটিতে আজ টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে লরার ১৬৯ রানের ওপর ভর করে ৩১৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই রান তাড়া করে ৪২.৩ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে বসে ইংলিশ মেয়েরা। এসময় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা তুলতে পারে কেবল ১৯৪ রান। ১২৫ রানের জয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। --- টি স্পোর্টস
এদিন তাজমিন ব্রিটসকে নিয়ে ওপেনিংয়ে নামেন লরা। দুজনের ওপেনিং জুটি ভাঙে দলীয় শতক (১১৬) রান পার হলে। ব্রিটস ৪৫ রানে আউট হলে অ্যানেকে বোশ ও সুনে লুস ফেরেন অল্পতে। তবে ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে সমানতালে যুদ্ধ চালিয়ে যান লরা।
চতুর্থ জুটিতে ক্যাপের সঙ্গী করে দলকে বিপদমুক্ত করেন লরা। নিজেও তুলে নেন ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি।
শেষদিকেও ভাঙা-গড়া লক্ষ্য করা যায়। একপ্রান্ত আগলে দলীয় ২৯১ রান পর্যন্ত টিকে থাকেন প্রোটিয়া ওপেনার। তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬৯ রান। বেলের বলে ক্যাচ আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ২০টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান এই ডান হাতি ব্যাটার। তার ব্যাটে ভর করে ইংল্যান্ডকে ৩২০ রানের লক্ষ্য দিতে পারে প্রোটিয়ারা।
ইংল্যান্ডের হয়ে সোফি একলস্টোন সর্বোচ্চ চারটি উইকেট তোলেন।
জবাব দিতে নেমে রীতিমতো তাসের ঘরে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। আয়াবোঙ্গা খাকা ও ম্যারিজান ক্যাপের তোপে দলীয় এক রান তুলতেই তিনটি উইকেট হারিয়ে বসে ইংলিশরা। টপঅর্ডারের তিন ব্যাটার-অ্যামি- ট্যামি বোমন্ট ও হিদার ডাক মেরে ফেরেন।
বিপর্যস্ত দলের আশা দেখান অধিনায়ক ন্যাট স্কাইভার- অ্যালিস ক্যাপসি। দুজন শতোর্ধ্ব জুটি গড়েন। ব্যক্তিগত অর্ধশতক করে অ্যালিস ফিরলে তাদের জুটি ভাঙে। এরপর ড্যানি ওয়ায়াট-হজকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখেন ইংলিশ অধিনায়ক। এ জুটিও ৩০ রান পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এবার ফাটল ধরে ন্যাট স্কাইভারের কারণে।
ইংলিশ অধিনায়ককে ফেরেন ৬৪ রানে। ৭৬ বল মোকাবিলা করেন তিনি। যাতে ছিল ১ ছক্কা ও ৪টি বাউন্ডারি। ন্যাট স্কাইভার ফেরেন দলীয় ১৩৮ রানে। ইংল্যান্ড থামে ১৯৪ রানে। এ ৬০ রান যোগ করতে গিয়ে ৬ ক্রিকেটার সাজঘ রমুখো হন।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট ছিল ক্যাপের। ৫টি উইকেট শিকার করেন এ পেসার। তিনি এখন ওয়ানডে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। ২৮ ইনিংসে ৪৫টি উইকেট তুলেছেন লরা।