শিরোনাম
◈ আমার চারটি গাড়ি আছে, চারজন ড্রাইভার আছে, খুব একটা গরীব মানুষ, না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলা‌দে‌শের মুশ‌ফিকুর র‌হিম ও তাইজুল আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের দৌড়ে ◈ আইসিসি শাস্তি দি‌লো নাহিদ রানা‌কে ◈ প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই সড়কের ইট তুলে নেওয়া হলো! ◈ মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১২টি চুক্তি ◈ অফিসে ঢুকে বলে, “বাপে ফোন দেয়, ধরস না কেন? বাপের সঙ্গে কথা না বলে কীভাবে ব্যবসা করিস সেটা দেখবো” ◈ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে নতুন সুবিধা, শ্রমবাজার আধুনিক করছে আমিরাত ◈ অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানবান্ধব বাজেট দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ সরকারি-বিরোধী সব সংসদ সদস্যের এলাকায় সমান উন্নয়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৫ রাত
আপডেট : ১১ জুন, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ১২টি চুক্তি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া সফর করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন, ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রায় এক ডজন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর সামনে রেখে উভয় পক্ষই চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের লক্ষ্যে কাজ করছে।

যেসব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা সই হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে—জনশক্তি রপ্তানি, মুক্ত বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, হালাল বাণিজ্য সম্প্রসারণ ইত্যাদি।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের এখনো কিছু সময় বাকি আছে।

চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে উভয় পক্ষ কাজ করছে। সফরের আগেই বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে।

২২ জুন দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২২ জুন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা দেবেন উভয় প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরকালে সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্ব পাবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ। দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তবে গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার খোলার লক্ষ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ চায় মালয়েশিয়ায় দ্রুত শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু করতে। এ লক্ষ্যে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে, মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের প্রভাব হ্রাস করে এবং স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বাণিজ্যের পরিমাণ এখনো সম্ভাবনার তুলনায় সীমিত। সফরে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, পাম অয়েল, অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা (পিটিএ) চুক্তির বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। উচ্চশিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে সফরে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

আসিয়ান ও রোহিঙ্গা ইস্যু: মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র এবং আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে এ সংস্থার সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইতে পারেন।

এদিকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে মালয়েশিয়া বরাবরই বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ফোরামে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পক্ষে কুয়ালালামপুর একাধিকবার অবস্থান নিয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক: বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ, ওআইসি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সময় থেকেই বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন গতি পায়। বিশেষ করে শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ বাংলানিউজকে বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি, বাণিজ্য, শিক্ষা ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা রয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত বছরের আগস্টে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঢাকা সফর করেন। উৎস: বাংলানিউজ২৪

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়