শিরোনাম
◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৫৯ রাত
আপডেট : ২৯ মে, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এনডিটিভি সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী: চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ থাকলে ভারত স্পষ্টভাবে জানাক

ভারতে তিন দিনের সফর শেষে মরিশাসে চলমান নবম ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জানা গেছে, ভারত থেকে মরিশাসে তাঁর সঙ্গে একই বিমানে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করও।

মরিশাসে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে চীন ও ভারত দুই দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারসাম্য, এই বছরই শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা চুক্তি নবায়নের পথে বিবেচ্য বিষয়, বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে বাড়তি জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধে ভারতের সাড়া, ভিসা সমস্যার সমাধান… বেশ কয়েকটি ইস্যু নিয়েই কথা বলেছেন ড. খলিলুর রহমান।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্ন ড. রহমান বলেছেন, এটাকে জিরো-সাম গেইম হিসেবে, অর্থাৎ চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক মানে ভারতের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক - এভাবে দেখা যাবে না।

ড. রহমান বলেন, ‘ভারত বা চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে জিরো সাম গেইম হিসেবে দেখি না আমি। এখানে যদি (ভারতের দিক থেকে) কোনো উদ্বেগ থাকে, আমরা আশা করি আমাদের ভারতীয় বন্ধুরা সেটা নির্দিষ্ট করে বলবেন। কী সমস্যা — সেটা জানালে আমরা দেখব।’ তাঁর কথা, ‘অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা বা দ্বন্দ্ব কারও জন্যই ভালো নয়।’

চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যেটা বলেছি, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তো কারও ক্ষতি করে নয়। কিছু ক্ষেত্রে আমরা চীনের সঙ্গে খুব ফলপ্রসূভাবে কাজ করছি, সেটা আমরা চালিয়ে যাব। আবার কিছু ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বড় আকারে বাণিজ্য করছি। দুই দেশের সঙ্গেই আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি আছে। তার মানে দুই দেশ থেকেই আমরা আমদানি করছি, তাই না? তবে (আমদানি পণ্যের) ধরনটা ভিন্ন। এগুলো বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত হয় — যেখানে ভালো দাম, সেখানেই যাব। আপনাদের (ভারত) ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই।’

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটা নেতিবাচক হয়ে উঠেছিল। এই সম্পর্ক নতুন করে গড়তে সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন আছে বলেও উল্লেখ করেন ড. খলিলুর রহমান। তাঁর ভাষায়, এই ‘রিসেটে’র ক্ষেত্রে ‘ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে এগোতে হবে।’ দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, দুই প্রতিবেশি দেশই ‘আলোচনা করতে ও উদ্যোগ নিতে ইচ্ছুক।’

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রেক্ষাপটে ভারতের দিক থেকে জ্বালানি সহযোগিতাকে এই ‘রিসেট’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সংকটের সময় অংশীদারদের কাছে গিয়েছিলাম, ভারত দ্রুত সাড়া দিয়েছে। আমাদের একটি পাইপলাইন আছে, ভারত সেটি দিয়ে ডিজেল সরবরাহ করছে।’ এই সরবরাহ আরও বাড়াতে তিনি অনুরোধ করেছেন জানিয়ে ড. রহমান বলেছেন, ভারতের দিক থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন, ভারত তার নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর বাংলাদেশের দিকে সরবরাহ আরও বাড়াতে পারে।

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও সাক্ষাৎকারে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে, চুক্তিটি নবায়ন এবং সেক্ষেত্রে শর্ত-সুবিধা নিয়ে আলোচনার কথাও উঠছে। এ নিয়ে প্রশ্নে ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, গঙ্গা পানি চুক্তিও সম্পর্কের পুনরুন্নয়নের বড় একটি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ‘পানি সীমিত…গঙ্গা মানে আমাদের জন্য জীবন-মৃত্যুর ব্যাপার’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, ন্যায্য ও জলবায়ু সহনশীল পানি বণ্টনের ব্যবস্থা করতে পারলে সেটি অন্তত আগামী কয়েক দশকের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কাঠামোগত ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘পানি সঠিকভাবে ভাগ না হলে আমাদের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, জলবায়ু ঝুঁকিও বাড়বে।’ তাই ৫-১০ বছরের স্বল্পমেয়াদে না ভেবে এই চুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুই দেশই ভিসায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিভিন্ন মেয়াদে। ভিসা সমস্যার সমাধান নিয়ে প্রশ্নে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুষে মানুষে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ভিসা জটিলতার কারণে বিশেষ করে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু ভিসার সমস্যা ছিল না, অনেক ক্ষেত্রে এটি মানবিক সমস্যায় পরিণত হয়েছিল।’

বঙ্গোপসাগর যেহেতু দুই দেশেরই সীমানায় পড়ে, সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন খলিলুর রহমান। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীতে স্বাধীন চলাচলে বাধার কারণে কী সমস্যা হচ্ছে, সেই উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হলে আমাদের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন ব্যাহত হবে।’ তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থেই সমুদ্রপথ খোলা রাখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সাক্ষাৎকারে নেতিবাচক বয়ানের প্রসঙ্গও এসেছে। সেটি কীভাবে দুই দেশের সম্পর্কে গত বছর দেড়েকে প্রভাব ফেলেছে, সে উদাহরণ টেনে এনে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতের কিছু মহল থেকে নেতিবাচক প্রচারণা হয়েছে। সে সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। কারণ ‘..তাঁরা এমন কিছু এর আগে কখনো দেখেননি, এবং (ভারতের অনেক সংবাদমাধ্যমে যে বয়ান প্রচার করা হচ্ছিল) সেগুলো সঠিকও ছিল না। আপনাদের শ খানেক সাংবাদিক যখন বাংলাদেশে এসেছেন, তাঁরা (সেসব বয়ানের বিপরীতে প্রমাণ হিসেবে) কিছুই খুঁজে পাননি।’

‘নেতিবাচক ন্যারেটিভ এমন ধারণার জন্ম দিতে পারে যা বাস্তবতার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে’ বলে সতর্ক করে দিয়ে ড. রহমান বলেছেন, আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তোলার এই সময়ে নেতিবাচক বয়ান আমাদের সব প্রচেষ্টাকেই ধুলিসাৎ করে দিতে পারে। 

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়