শিরোনাম
◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৪৮ রাত
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পুরুষদের মধ্যে পার্কিনসন্স ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

নারীর তুলনায় পুরুষের মধ্যে পার্কিনসন্স ডিজিজ বা এই স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সমীক্ষা থেকে দেখা গেছে, পুরুষের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নারীর চেয়ে প্রায় ১.৫ থেকে ২ গুণ বেশি। পার্কিনসন্স রোগে পুরুষের ঝুঁকি বেশি হওয়ার প্রধান কারণ পুরুষেরা তুলনামূলকভাবে বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে কিংবা দূষিত পরিবেশে বেশি থাকেন। 

তা ছাড়া স্ট্রোক হলে কিংবা মাথায় আঘাত পেলেও পার্কিনসন্সের ঝুঁকি বাড়ে। তবে এই ফ্যাক্টরগুলো নারীর মধ্যেও কাজ করে। গবেষকরা মনে করছেন, হরমোনের তারতম্যের জেরেই পুরুষের মধ্যে পার্কিনসন্সের ঝুঁকি বেশি থাকে। মূলত ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কম থাকায় পুরুষেরা তুলনামূলকভাবে বেশি এ রোগে আক্রান্ত হন। ৬০ বছর পেরোলেই পার্কিনসন্সের লক্ষণগুলো রোগীর মধ্যে দেখা দেয়। 

এখন পর্যন্ত পার্কিনসন্সের মূল কারণ জানা যায়নি। সাধারণত দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, খাবারে টক্সিনের উপস্থিতি এবং জিনগত কারণে পার্কিনসন্সের ঝুঁকি বাড়ে। তবে একাধিক গবেষণা বলছে— নারীর তুলনায় পুরুষদের মধ্যে পার্কিনসন্স ডিজিজের ঝুঁকি বেশি। কোনো জিনিস ধরতে গেলেই হাত থর থর করে কেঁপে ওঠে। সামলাতে না পেরে হাত থেকে জিনিস পড়ে যায়। আবার হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পড়ে যান। ভারসাম্য সামলাতে পারেন না। আবার অনেক সময়ে কথা বলার সময়ে কথা জড়িয়ে যায়। এগুলো পার্কিনসন্সের প্রাথমিক উপসর্গ। 

সাধারণত পার্কিনসন্সের ঝুঁকি কমায় ইস্ট্রোজেন। ইস্ট্রোজেন হলো ফিমেল সেক্স হরমোন। নারীর দেহে সুরক্ষা কবচের কাজ করে এ হরমোন। ডোপামিন উৎপাদনে সহায়তা করে, মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায়, হার্টের স্বাস্থ্য বজায় রাখে এবং মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। ডোপামিন উৎপাদনের মাত্রা ঠিক থাকলে অধিকাংশ সময়ে পার্কিনসন্সের ঝুঁকি যায়। এই ইস্ট্রোজেন হরমোনই নারীকে পার্কিনসন্স ডিজিজের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। তবে নারীর পার্কিনসন্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি একেবারেই দেখা যায় না, তা ঠিক নয়। নারীও পার্কিনসন্স ডিজিজে ভুগতে পারেন। কিন্তু নারীর মধ্যে এই রোগের উপসর্গগুলো অনেক দেরিতে প্রকাশ পায় এবং সেগুলো জোরালো হতেও সময় লাগে। সাধারণত মেনোপজের পর নারীরা পার্কিনসন্সে আক্রান্ত হতে পারেন। ঋতুবন্ধের পর শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। তখনই হার্ট অ্যাটাক ও হাড়ের ক্ষয়ের মতো পার্কিনসন্সের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পুরুষ ও নারীদের মধ্যে এই পার্থক্য ধীরে ধীরে কমছে। আজকাল সময়ের আগেই নারীর মধ্যে পার্কিনসন্স ডিজিজ নির্ণয় করা যাচ্ছে। ইস্ট্রোজেন ছাড়াও পার্কিনসন্সের পেছনে যে ফ্যাক্টরগুলো দায়ী, তা নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে প্রায় সমান। তাই ৬০ বছর পর হাত-পা কাঁপা, পেশিতে টানা লাগা, চলাফেরার সময়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তখনই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়