শিরোনাম
◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা ◈ ব্যাংকিং খাতে নতুন শর্ত: নতুন ও পুরোনো হিসাবেও লাগবে টিআইএন, আসছে বাজেটে প্রস্তাব ◈ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা ◈ ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিয়ে জয়া আহসানের রিট, যে নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশিত : ০৮ জুন, ২০২৬, ০৩:১০ দুপুর
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২৬, ০৪:০৮ দুপুর

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন

প্রায় চার মিনিট উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর ট্রাম্প বলেন, 'আর নয়, অনেক হয়েছে। এবার এখানেই শেষ করা যাক। ধন্যবাদ, ডার্লিং। ভালো কাটুক সময়।' এরপরই আসন ছেড়ে উঠে খামারবাড়ির ভেতরে তৈরি অস্থায়ী স্টুডিয়ো থেকে বেরিয়ে যান ট্রাম্প। উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলসের ওই খামারবাড়িতে গত শুক্রবার কৃষকদের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তার আগেই সাক্ষাৎকারটি রেকর্ড করা হয়েছিল।

রোববার সম্প্রচারিত এনবিসি-র 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে নির্বাচনে কারচুপি এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের দাঙ্গার ঘটনা নিয়ে মিথ্যা দাবি করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকার তার সেই মিথ্যা দাবি খণ্ডন করলে মেজাজ হারিয়ে মাঝপথেই সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে যান ট্রাম্প।

এ ঘটনা নিয়ে এনবিসির মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলার শিকার বলে দাবি করা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে ট্রাম্প ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল চেয়েছিলেন। উপস্থাপক ওয়েলকার এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই ট্রাম্প উত্তেজিত হয়ে পড়েন। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের (আইআরএস) বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দায়ের করা একটি মামলার নিষ্পত্তির জন্য মার্কিন বিচার বিভাগ ওই তহবিল গঠনে সম্মতি দিয়েছিল। কিন্তু আইনি চ্যালেঞ্জ এবং খোদ রিপাবলিকান সিনেটরদের বিরোধিতার মুখে পড়ে পিছু হটেন কর্মকর্তারা।

যদিও 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানান, তিনি এখনও ওই তহবিল গঠন করতে চান। 

'বিষয়টি যদি আমার হাতে থাকত, তাহলে আমি তাদের প্রাপ্য টাকা দিয়ে দিতাম। এটি অনুমোদন পেলে খুব ভালো। আর অনুমোদন না পেলে আমি হতাশ হব,' বলেন তিনি।

ওয়েলকার নির্দিষ্টভাবে ট্রাম্পকে চাপ দিয়ে জানতে চান, ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করা ১৭২ জন ব্যক্তি এই অর্থের জন্য যোগ্য হবেন কি না। ট্রাম্প সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি যুক্তি দেন, এফবিআই এজেন্টরাই দাঙ্গাকারীদের ক্যাপিটল হিলের ভেতরে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন; আর কঠোর সাজার ভয়েই অনেকে দোষ স্বীকার করেছেন।

ওয়েলকার তখন মনে করিয়ে দেন, এফবিআই এজেন্টরা বিক্ষোভকারীদের ক্যাপিটল হিলের ভেতরে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই। মার্কিন বিচার বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের তদন্তে উঠে এসেছে, এফবিআইয়ের চারজন তথ্যদাতা সেদিন ওই ভবনে ঢুকেছিলেন ঠিকই, তবে তা কর্মকর্তাদের নির্দেশে নয়। তাছাড়া দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য সাড়া দেওয়ার আগপর্যন্ত কোনো দায়িত্বরত এজেন্ট সেদিন ক্যাপিটল চত্বরে উপস্থিত ছিলেন না। 

পাল্টা যুক্তিতে ট্রাম্প বলেন, 'দুরনিতিগ্রস্ত পুলিশ এবং [ক্ষমতার] অপব্যবহারের কারণে ওই মানুষগুলো শেষ হয়ে গেছে। তাদের অনেকেরই ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত।'

এর পরেই ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং গত সপ্তাহের ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাথমিক (প্রাইমারি) নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। ওয়েলকার জানান, এই দাবির সপক্ষেও কোনো প্রমাণ নেই।

গত মঙ্গলবারের প্রাইমারি ভোটের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় এখনও ভোটগণনা চলছে। এই উদাহরণ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, ভোটগণনা শেষ করতে কয়েকদিন সময় লাগাই কারচুপির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুসারে, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত পোস্টমার্ক থাকা মেইল ব্যালট গণনার জন্য এক সপ্তাহ পর্যন্ত গ্রহণ করা যায়।

ট্রাম্প বলেন, 'চোখ খুললেই তা দেখা যাচ্ছে।'

ওয়েলকার পাল্টা বলেন, 'কিন্তু সেটা তো প্রমাণ নয়।'

এর পরেই এনবিসি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা শুরু করেন ট্রাম্প। তারপর গায়ের মাইক্রোফোনটি খুলে ছুড়ে ফেলে আসন ছেড়ে উঠে বেরিয়ে যান।

বেরিয়ে যাওয়ার আগে কারচুপির প্রশ্নে বিরক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওয়েলকারকে 'কূটবুদ্ধির বা বোকা' মানুষ বলেও আক্রমণ করেন।

ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, 'আপনি হয় অত্যন্ত কূটবুদ্ধির, না হলে আস্ত বোকা। এবার এখানেই শেষ করা যাক। অনেক হয়েছে। ধন্যবাদ, ডার্লিং।' এই বলে তিনি স্টুডিয়ো থেকে বেরিয়ে যান।

প্রায় ৫০ মিনিটের এই সাক্ষাৎকার চলাকালীন খামারবাড়ির টিনের ছাদে অনবরত ভারী বৃষ্টির শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হওয়ার পরেই কৃষকদের গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন ট্রাম্প। সেখানে এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কথা স্বীকারও করেন তিনি। 

তবে নিজের এই মেজাজ হারানোর জন্য আবহাওয়াকেই দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, 'বৃষ্টি হচ্ছিল তো, তাই ওদের ওপর একটু রেগে গিয়েছিলাম। ওদের আচরণে আমি খুশি হতে পারিনি। তবে আমাদের সময়টা ভালোই কেটেছে।' অনুবাদ: টিবিএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়