শিরোনাম
◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন ◈ হামে ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৬১০, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর ◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৩৩ সকাল
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নতুন শত্রু খুঁজছে ইসরায়েল, তালিকার শীর্ষে পাকিস্তান-তুরস্ক

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধান শত্রু কে হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে এরই মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী শুরু হয়েছে। ইরানের পর ইসরায়েলের প্রধান শত্রু হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের নাম নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি দেশটির দৈনিক মাআরিভে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির’ দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মত দেন।

গোলানি বলেন, তেহরান যখন ‘ইসরায়েলের প্রধান শত্রুর ভূমিকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হবে’, তখন সেই শূন্যস্থান পূরণে নতুন একটি দেশ এগিয়ে আসবে। নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়, প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীনে ইরান গত তিন দশক ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করেছে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ‘বিপর্যস্ত’ হয়ে পড়েছে।

কলামটিতে তুরস্ক বা পাকিস্তানকে ইরানের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে রাখা হয়েছে। গোলানি লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে প্রতিযোগিতাটি এখন তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, উভয়ই বিশাল দেশ (তুরস্কে ৮ দশমিক ৫ কোটি এবং পাকিস্তানে ২৪ কোটি মানুষ), দুটি দেশই সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সেখানে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। উভয়েরই বিশাল সেনাবাহিনী রয়েছে এবং আশ্চর্যজনকভাবে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক বিদ্যমান।

গত এক সপ্তাহে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গাজা যুদ্ধ এবং সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নেতারা পাল্টাপাল্টি তীক্ষ্ণ অভিযোগ ছুড়ে দিচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ‘নিজ দেশের কুর্দি নাগরিকদের ওপর গণহত্যা’ এবং ‘ইরানের সন্ত্রাসী রেজিম ও তাদের প্রক্সিদের মদদ দেওয়ার’ অভিযোগ তোলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুরস্ক গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকায় নেতানিয়াহুর বাগাড়ম্বরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়াকে কেন্দ্র করে এই নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দানা বাঁধতে পারে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান নিজেকে ইরান যুদ্ধের বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও দেশটির অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করে আসছেন। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে একটি পোস্ট করে (যা পরে মুছে ফেলা হয়) ইসরায়েলকে ‘শয়তান’ এবং ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ বলে অভিহিত করেন। মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তান যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতা করতে যাচ্ছিল, তার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই মন্তব্যটি করা হয়।

মাআরিভের ওই নিবন্ধে গোলানি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে লড়াই থেমে যাওয়ার পরপরই এই দুই দেশের যেকোনো একটির সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকে অবশ্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি উপসংহারে লিখেন, ‘তাদের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়া আমাদের হাতে নেই এবং দুটি বিকল্পই প্রায় সমান খারাপ। তাদের মোকাবিলা করার জন্য আমাদের প্রধান অস্ত্র হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক, যা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করতে হবে।’

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়