শিরোনাম
◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন ◈ হামে ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৬১০, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর ◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৮:২৩ রাত
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৯:৩১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আসন্ন বাজেটে সোলার, ইভি ও ইলেকট্রনিক্স খাতে বড় কর ছাড়ের পরিকল্পনা

জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এর উপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আসন্ন বাজেটে এখাতের জন্য একগুচ্ছ প্রণোদনা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে সরকার।একই সাথে, দেশীয় শিল্পে—বিশেষ করে হোম অ্যাপ্লায়েন্স বা গৃহস্থালি সামগ্রী, কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং বৈদ্যুতিক যান (ইভি) উৎপাদনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করা হতে পারে কিংবা বিদ্যমান সুবিধাগুলোর মেয়াদ আরও তিন থেকে চার বছর বাড়ানো হতে পারে।

বর্তমানে স্থানীয়ভাবে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী বছরের ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা। সরকার এই সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করতে পারে। একইভাবে ব্লেন্ডার ও জুসারের মতো হোম এপ্লায়েন্স তৈরির যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান হ্রাসকৃত শুল্ক সুবিধার মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এটিও ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

অন্যদিকে, আমদানিকৃত বৈদ্যুতিক যানের (ইভি) ওপর বর্তমানে মোট করের বোঝা প্রায় ৯০ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, স্থানীয়ভাবে ইভি উৎপাদনে সহায়তা দিতে আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর শুল্ক সুবিধার পাশাপাশি ভ্যাট ও আয়করে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট অভ্যন্তরীণ আলোচনা থেকে এই সব তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রফটপ সোলার) প্রকল্পের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর করের হার ৩৬ থেকে ৬৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই হার কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। এর পাশাপাশি, বাণিজ্যিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর জন্য কর ছাড়ের সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত করা হতে পারে।

এই সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ করা হলে— বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের আয়ের উপর প্রথম পাঁচ বছর কোন ধরণের কর দিতে হবে না। পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ ছাড় এবং পরবর্তী দুই বছর ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন বলে জানান এনবিআরের আয়কর বিভাগের বাজেট সংশ্লিষ্ট একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে যেখানে যা করা দরকার, সরকার তাই করতে যাচ্ছে আগামী বাজেটে।

তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত, এজন্য এখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আমদানি কর, ভ্যাট ও আয়করে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ইতিমধ্যে যারা বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন, তারা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এনজেড টেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালেউধ জামান খান, যাঁর কারখানায় প্রায় ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপিত রয়েছে, তিনি টিবিএস-কে বলেন, "বর্তমানে কিছু সোলার যন্ত্রাংশের ওপর আমদানি কর ৯০ শতাংশের বেশি। যদি এই কর কমানো হয়, তবে উদ্যোক্তারা এই খাতে বিনিয়োগে আরো বেশি আগ্রহী হবেন।"

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট করসহ বর্তমানে এক মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়। যদি আমদানি কর ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়, তবে প্রতি মেগাওয়াটে স্থাপন খরচ প্রায় ৫০ লাখ টাকা কমতে পারে। "তবুও এই খরচ ভারতের তুলনায় বেশি" –বলেন তিনি।

বর্তমানে বাংলাদেশে শিল্প খাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। তবে এই খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ মোট উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশ সোলার মডিউল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং গ্রিনফিনিটি এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম বাকী মাসুদ উল্লেখ করেন, দেশীয় বিনিয়োগকারীদের ইতিমধ্যেই সোলার খাতের অনেক যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "এই ধরনের যন্ত্রাংশের ক্যাটাগরিতে স্থানীয় শিল্পকে যদি পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেওয়া না হয়, তবে বিদ্যমান উৎপাদকেরা হারিয়ে যাবেন।"

"সরকারকে এটিও মাথায় রাখতে হবে" –জানিয়ে তিনি বলেন, "অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে ইতোমধ্যে সোলারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টি-ই হারিয়ে গেছে।"

স্থানীয় হোম এপ্লায়েন্স, কম্পিউটার শিল্পের বিকাশে প্রচেষ্টা

সরকার গত বছরই বেশ কয়েকটি দেশীয় শিল্পের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাটের হার ঘোষণা করেছিল। তবে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ উৎপাদনের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যা এখন আরও তিন বছরের জন্য বাড়ানো হতে পারে।

একইভাবে, ব্লেন্ডার ও জুসারের মতো গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর হ্রাসকৃত শুল্ক সুবিধার মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও— এটিও ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল টিবিএস-কে বলেন, "দেশীয় শিল্পের জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে আসবে।"

কর বিশেষজ্ঞরাও আমদানি-বিকল্প শিল্পগুলোর জন্য নীতিগত সহায়তা বজায় রাখার বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন।

এসএমএসি অ্যাডভাইজরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ূয়া টিবিএস-কে বলেন, "যেহেতু স্থানীয় শিল্পগুলো ধীরে ধীরে তাদের সক্ষমতা তৈরি করছে, তাই আরও কিছু সময়ের জন্য এই সহায়তা বাড়ানো একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।"

তবে তিনি মনে করেন, যে উদ্দেশ্যে সরকার এসব সহায়তা দিচ্ছে তা পূরণ হচ্ছে কিনা, বিশেষত আমদানিই নির্ভরতা কমছে কিনা, এবং কনজ্যুমার বা ভোক্তার কাছে কতটুকু সুবিধা যাচ্ছে— নীতিনির্ধারকদের তা পর্যালোচনা করে দেখা উচিত।" সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়