যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনা নিরসনে কোনও কার্যকর সমঝোতার পথ এখনও দৃশ্যমান হচ্ছে না। ওয়াশিংটন তেহরানকে ‘আরও মৃত্যু ও ধ্বংসের’ হুঁশিয়ারি দিলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক চাপ বাড়িয়ে ইরানের অনড় অবস্থান পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে এই পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে এবং তেহরান এখন ‘পিছু হটার পথ’ খুঁজছে।
ইরানের প্রকাশ্যে দেওয়া প্রতিক্রিয়া কিন্তু ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। তারা পাঁচটি পাল্টা দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে গ্যারান্টি, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি।
অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টমাস জুনাউ বলেন, ইরান যে এই পরিকল্পনা সরাসরি গ্রহণ করবে না, তা অনুমেয়ই ছিল। তারা বরাবরের মতো অবাধ্য ভাষায় এটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সারবস্তু হলো তারা আলোচনায় রাজি। এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প আলোচনার বিষয়ে আশাবাদী থাকলেও বৃহস্পতিবার তার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি লিখেন, “দেরি হওয়ার আগেই তাদের সিরিয়াস হওয়া উচিত। কারণ একবার সময় পেরিয়ে গেলে আর ফিরে আসার পথ থাকবে না এবং পরিস্থিতি মোটেও সুখকর হবে না।”
পেন্টাগনের তথ্যমতে, তারা ইতোমধ্যে ইরানে ১০ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে ইরানের অন্তত ১৪০টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিনি এই যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার ওপর অসন্তুষ্ট। তবে এই মতামতে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট; ৭০ শতাংশ রিপাবলিকান এখনও ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন।
ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের পরিচালক রাজ জিম্মত মনে করেন, ট্রাম্প হয়তো বড় কোনও অর্জনের ঘোষণা দিয়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইবেন। অন্যদিকে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ট্রাম্পের ওপর চাপ দিচ্ছে যেন ইরানের হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না করে কোনও ‘সহজ যুদ্ধবিরতি’ না করা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, “ইরান হয়তো এমন কোনও যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে না যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আবার সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেবে। সম্ভবত এখন একমাত্র অর্জন হতে পারে উত্তেজনা কমানোর একটি সীমিত বোঝাপড়া, যেমন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা না করা কিংবা হরমুজ প্রণালি দিয়ে খাদ্য ও সার চলাচলের অনুমতি দেওয়া।”