শিরোনাম
◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

প্রকাশিত : ০৪ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৬ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

খামেনি হত্যার নিন্দা না করায় ভার‌তের অভ‌্যন্ত‌রেই সমালোচনার মুখে নরেন্দ্র মোদীর সরকার

এল আর বাদল : ইরানে  ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা হামলার পরে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘর্ষ চলছে, তাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ একেকটি পক্ষের সমর্থনে দাঁড়িয়েছে। তবে পুরনো মিত্র দেশ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পরেও কোনো মন্তব্য না করে ভারতের অভ্যন্তরেই সমালোচনার মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

চীন, রাশিয়া, মালয়েশিয়াসহ একাধিক দেশ ইরানের উপর হামলার সমালোচনা করে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। আবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে আবার দাঁড়িয়েছে বেশ কয়েকটা দেশ। ------- বি‌বি‌সি বাংলা

ভারতের তরফেও 'শান্তি ও স্থিতিশীলতা' বজায় রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সংঘাতের আবহে থাকা সমস্ত দেশকে 'সংযম' দেখানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন।

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে অবশ্য রোববারেই আলোচনা করেছেন মি. মোদী। তবে খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে কোনোরকম মন্তব্য 'এড়িয়ে' গিয়েছে ভারত। যা আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে ভারতের পুরানো সম্পর্ক স্মরণ করিয়ে দিয়ে নরেন্দ্র মোদী ও তার সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কংগ্রেস।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত একটি উত্তর সম্পাদকীয় প্রবন্ধে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী মোদী সরকারের নীতির সমালোচনা করে সেগুলোকে সংবিধানের 'অসঙ্গতিপূর্ণ' বলে উল্লেখ করেছেন। বামপন্থী দলগুলি সহ অন্যান্য বিরোধীও একই ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করছে।পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইসরায়েল সফরের সময় ও সফরকালে তার মন্তব্যকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ নিয়ে ভারতের অবস্থান

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

উত্তেজনা হ্রাস এবং অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য সংলাপ এবং কূটনীতি অনুসরণ করা উচিত। সমস্ত রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে, জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি এবং ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সায়ের-এর সঙ্গে কথাও বলেন শুক্রবার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার পর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন।

একইভাবে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে জানান বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এই তিন দেশের নাগরিকদের কল্যাণ, শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে কথা বলেছেন তিনি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ভারত সফরকালে সোমবার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বলতে শোনা যায়, "পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আমাদের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

সমালোচনার সূত্রপাত

সম্প্রতি ইসরায়েল সফরে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। গত ২৫ ও ২৬শে ফেব্রুয়ারি- এই দুই দিনের সফরে ভারত ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো মজবুত করতে একাধিক চুক্তিও হয়। সফরের সময় মি. মোদীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, "পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা সরাসরি ভারতের নিরাপত্তার সাথে জড়িয়ে রয়েছে।

'গাজা পিস ইনিসিয়েটিভ'-এর সমর্থনে কথা বলতে শোনা গিয়েছিল তাকে। পাশাপাশি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েলের ওপরে হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা করে তাকে 'বর্বরোচিত' বলে আখ্যা দেন তিনি। প্রথম থেকেই বিশ্বের নজর কিন্তু তার ওই সফরের দিকে ছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদীর মন্তব্যও বৈশ্বিকস্তরে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বৈকি।

সেই সময়েই কংগ্রেস পার্টির সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ মি. মোদীর ইসরায়েল সফরের সময় লিখেছিলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বাস্তুচ্যুতি এবং হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদের ঘটনা নিয়ে ক্রমবর্ধমানভাবে বিশ্বব্যাপী নিন্দা হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল এবং আমেরিকা ইরানের উপর বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে। তবুও প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ইসরায়েল যাচ্ছেন তার প্রিয় বন্ধু নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন- যিনি গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের বিষয়ে সাবেক কূটনীতিক কেসি সিং ২৪শে ফেব্রুয়ারি এক্স-এ লিখেছিলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদী তার 'বন্ধু' নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে ইসরায়েল সফর করছেন, এমন এক সময়ে যা উপসাগরীয় এবং পশ্চিম এশিয়ার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর অর্থ, ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের পক্ষ নিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। সময়ই বলে দেবে এটা বুদ্ধিমানের পদক্ষেপ ছিল না কি কৌশলগত ভুল।

অনেকে আবার মি. মোদীর সফরের সমর্থনও করেছেন। জর্ডান এবং লিবিয়া সহ বেশ কয়েকটা দেশে ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন অনিল ত্রিগুনায়েত। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, "আমি বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইতিমধ্যেই আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমি খুশি যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলে থাকাকালীন তারা এই আক্রমণ চালায়নি।

আমি মনে করি না শুধুমাত্র এই সফরের কারণে ভারতের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলো কিছু ভাববে। আমাদের ডি-হাইফেনেশন নীতি খুবই স্পষ্ট। অর্থাৎ, এক দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এই অঞ্চলের অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে না।

যা লিখেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী

ইসরায়েল আর ইরান - দুই দেশের সঙ্গেই ভারতের পুরনো সম্পর্ক। তাই খামেনির মৃত্যু নিয়ে ভারতের কোনো মন্তব্য না করার প্রসঙ্গে, সেই সুসম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি সোনিয়া গান্ধী।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রকাশিত প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন, "ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ইরানের মাটিতে বোমা হামলা ও নিশানা করে চালানো হত্যাকাণ্ডের দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে এবং তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকস্তরে বিপজ্জনক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে বর্ণনা করেছে।

আমরা ইরানের জনগণ এবং বিশ্বব্যাপী শিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানাই। আমি আবারো জানাতে চাই যে ভারতের বিদেশ নীতি বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি, ঠিক যেমনটা ভারতের সংবিধানের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত হয়েছে। সার্বভৌম সমতা রক্ষা, হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তির প্রচারের মতো নীতিগুলো ঐতিহাসিকভাবে ভারতের কূটনৈতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই বর্তমান সংযম শুধুমাত্র কৌশলগতই নয় আমাদের ঘোষিত নীতিগুলোর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলেও মনে হচ্ছে," লিখেছেন মিসেস গান্ধী। ইরান যে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তিনি।

সোনিয়া গান্ধী লিখেছেন, ভারতের জন্য এই পর্বটা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ইরানের সঙ্গে আমাদের সভ্যতার পাশাপাশি কৌশলগত সম্পর্কও রয়েছে। ১৯৯৪ সালে, যখন অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর একাংশ জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একটা প্রস্তাব আনার চেষ্টা করেছিল, তখন তেহরান সেই প্রচেষ্টাকে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

কাশ্মীর ইস্যুর আন্তর্জাতিকীকরণ রোধ করতে সাহায্য করেছিল সেই হস্তক্ষেপ। ইরান পাকিস্তান সীমান্তের কাছে জাহেদানে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতিকেও সক্ষম করেছে - গোয়াদর বন্দর এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের উন্নয়নের জন্য যা কৌশলগত ভারসাম্য এনেছে," লিখেছেন সোনিয়া গান্ধী।

খামেনির মৃত্যুতে ভারতের নীরবতা নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন সোনিয়া গান্ধী। তিনি লিখেছেন, "ভারত সরকার এই হত্যাকাণ্ড বা ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা করা থেকে বিরত থেকেছে। প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকভাবে, মার্কিন-ইসরায়েলের তরফে ব্যাপক আক্রমণের বিষয়টা উপেক্ষা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপর ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা করার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন, এর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা সম্পর্কে কিছু বলেননি।বামপন্থিদলগুলি সহ একাধিক বিরোধী দলও ইরানের উপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা, স্কুলে আক্রমণ, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মতো বিষয়ে সমালোচনা করে বিক্ষোভও প্রকাশ করেছে এই দলগুলো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়