শিরোনাম
◈ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের ◈ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:২৬ বিকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খেজুর রপ্তানিতে ইরানের সাফল্য, ২০২৪ সালে আয় ২১৩ মিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরানের তাজা ও শুকনা খেজুর রপ্তানির মূল্য ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। 

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (ITC)-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে ইরান ৩৩২,৩৪৬ টন খেজুর রপ্তানি করেছে, যার মোট মূল্য ছিল ২১৩.০৪৯ মিলিয়ন ডলার। সারা বছরে গড় রপ্তানি মূল্য ছিল প্রতি টন ৬৪১ ডলার। 

২০২৪ সালের রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি, যা প্রধান আঞ্চলিক বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সক্ষমতার উন্নতির প্রতিফলন। 

ইরানি খেজুরের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল ভারত, যা মোট রপ্তানির ১৯.৫ শতাংশ গ্রহণ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ১১ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এরপর পাকিস্তান (৭.৩ শতাংশ), তুরস্ক (৬.৮ শতাংশ) এবং কাজাখস্তান (৪.৯ শতাংশ) অবস্থান করছে। 

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ইরানের খেজুর রপ্তানির মূল্য ৯ শতাংশ এবং রপ্তানির পরিমাণ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ITC-এর তথ্য জানায়। 

ইরান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ খেজুর উৎপাদক দেশ। রপ্তানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশটির অ-তেল বাণিজ্যে খেজুরের গুরুত্বকে তুলে ধরে। 

কেরমান, সিস্তান-বালুচিস্তান, হরমোজগান, খুজেস্তান, বুশেহর ও ফারস প্রদেশে প্রধানত খেজুর উৎপাদন হয়। বিভিন্ন জাতের খেজুরের জন্য ইরান বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। 

দেশীয়ভাবে মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ খেজুর অভ্যন্তরীণভাবে ভোগ করা হয়, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বাকি ৩০ শতাংশ বা প্রায় ৩৫০,০০০ টন প্রতিবছর রপ্তানি করা হয়, যা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। 

ইরানি খেজুরের প্রধান আন্তর্জাতিক বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, ইরাক, পাকিস্তান, তুরস্ক, রাশিয়া, পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। 

খাতটির মূল্য সংযোজন বাড়াতে এবং ফসল-পরবর্তী ক্ষতি (যা ঐতিহাসিকভাবে প্রায় ৩০ শতাংশ) কমাতে খেজুর থেকে সিরাপ, পেস্ট ও চকলেটের মতো মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে, যা দেশীয় ব্যবহার ও রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই সহায়ক। 

ইরানের কৃষি খাত দেশটির অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি এবং অ-তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৈচিত্র্যময় জলবায়ুর কারণে দেশটি বিপুল পরিমাণ ফসল উৎপাদন করে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছে। 

ইরানের কৃষি খাতে বার্ষিক উৎপাদন ১২৫ থেকে ১৩০ মিলিয়ন টনের মধ্যে, যার মূল্য ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মাধ্যমে দেশটি তার অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদার প্রায় ৮৩ থেকে ৯০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। কৃষি খাত দেশটির জিডিপিতে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ অবদান রাখে এবং প্রায় ১৮ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। 

দেশটির ভৌগোলিক বৈচিত্র্য একে বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে বৈশ্বিকভাবে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। FAO-এর তথ্য অনুযায়ী, পেস্তা, খেজুর, মধু ও আখরোট উৎপাদনে ইরান বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদকদের মধ্যে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ৬ লাখ হেক্টরের বেশি বাগান নিয়ে ইরান বিশ্বের বৃহত্তম পেস্তা চাষের এলাকা ধারণ করে। 

কৌশলগত ফসল হিসেবে গম, যব, ধান ও ভুট্টা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূলভিত্তি। 

উদ্যানজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ইরান পেস্তা (যাকে প্রায়ই “সবুজ সোনা” বলা হয়), খেজুর, জাফরান এবং বিভিন্ন ধরনের তাজা ও শুকনা ফলের জন্য বিখ্যাত। 

কৃষিপণ্য ইরানের অ-তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৭.৭ থেকে ৩০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। দেশটি ইউরোপ, এশিয়া এবং সিআইএসভুক্ত দেশ সহ বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে। 

তবে এই খাতটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, বিশেষ করে পানির ঘাটতি ও খরার পুনরাবৃত্তি, যা ফসল উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে গমের ফলন গড়ের নিচে থাকার মতো উদাহরণ রয়েছে। 

এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা বরাদ্দজনিত সমস্যার কারণে সার সহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে কৃষকদের বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। তবুও সরকার আধুনিক সেচব্যবস্থা প্রসার, জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা এবং কৃষিপণ্যে করছাড়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে।

সূত্র: তেহরান টাইমস 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়