শিরোনাম
◈ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের ◈ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ পুলিশের দ্রুততম তদন্ত, আদালতের ছুটি বাতিল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে ◈ ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে ‘জিরো সিগন্যাল’ মহাপরিকল্পনা, ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকা ◈ পরিচালক‌দের ‌ভো‌টে তা‌মিম ইকবাল বিসিবির সভাপতি  ◈ সংসদে প্রতিশ্রুতি দিলে স্ট্যাডি করেই দেবেন: জ্বালানিমন্ত্রীকে স্পিকার (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:২৫ সকাল
আপডেট : ৩০ মে, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরানের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট মোকাবিলায় যেভাবে ‘তুরুপের তাস’ হয়ে উঠল ইলন মাস্কের স্টারলিংক

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে গত ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে কঠোর ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই ডিজিটাল অন্ধকারের মাঝে বহিবিশ্বের সাথে যোগাযোগের একমাত্র জানালা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা 'স্টারলিংক'।

রয়টার্স ও আল-জাজিরার প্রতিবেদন, স্পেসএক্স বর্তমানে ইরানি ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে এই সেবা সক্রিয় করেছে।  ইরানের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দেশটিতে স্টারলিংক অবৈধ হলেও গত দুই বছরে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখের মতো টার্মিনাল গোপনে সেখানে পাচার করা হয়েছে।  এখন এই ছোট ছোট ডিভাইসগুলোই বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

স্টারলিংক মূলত প্রথাগত ইন্টারনেট ব্যবস্থার মতো মাটির নিচের ক্যাবল বা টাওয়ারের ওপর নির্ভর করে না।  এটি মহাকাশে থাকা হাজার হাজার ছোট স্যাটেলাইটের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরাসরি ব্যবহারকারীর ডিভাইসে সংকেত পাঠায়।  ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে ঘূর্ণায়মান এই স্যাটেলাইটগুলো থেকে ইন্টারনেট পেতে ব্যবহারকারীর কাছে কেবল একটি রিসিভার বা টার্মিনাল থাকা প্রয়োজন।  

বর্তমান ব্ল্যাকআউটের সময় ইরানিরা প্রক্সি টুল এবং এই স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে অনলাইন হচ্ছেন, যা দেশটির সরকারের নিয়ন্ত্রিত গেটওয়েগুলোকে বাইপাস করতে সক্ষম।

তবে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ইরান সরকারও এখন অত্যন্ত মারমুখী অবস্থান নিয়েছে।  দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী রাশিয়া ও চীন থেকে আনা সামরিক গ্রেডের জ্যামার ব্যবহার করে স্টারলিংকের সংকেত বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। 

বিশেষজ্ঞ আমির রাশিদি জানিয়েছেন, তেহরানের মতো বড় শহরগুলোতে স্টারলিংকের ডেটা প্যাকেট লস ৩০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।  এর পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে আবাসিক এলাকাগুলোর ছাদে টার্মিনাল খোঁজা হচ্ছে।  ২০১৫ সালের শেষের দিকে পাস হওয়া একটি নতুন আইনে ইরানে স্টারলিংক ব্যবহারকে 'ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি'র সমান অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইলন মাস্কের সাথে এ বিষয়ে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ইরানিদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। 

অন্যদিকে, ইরান এই পদক্ষেপকে তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে দাবি করে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে অভিযোগ করেছে।  প্রযুক্তির এই লড়াইয়ে একদিকে যেমন স্টারলিংক তাদের সফটওয়্যার আপডেট করে জ্যামিং প্রতিরোধের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরান সরকার তাদের 'ন্যাশনাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক' বা নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট চালুর মাধ্যমে বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে হাঁটছে। এই ডিজিটাল যুদ্ধের মাঝখানে সাধারণ ইরানিরা প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে তথ্য আদান-প্রদান করে চলেছেন।

সূত্র:আল-জাজিরা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়