শিরোনাম
◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:০৩ বিকাল
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরা ভারতের জন্য কী অর্থ বহন করছে?

এনডিটিভি প্রতিবেদন: তারেক রহমান এমন এক নেতা, যার ভারতকে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে বিশ্বাসী। একইসঙ্গে তিনি ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককেও স্বীকার করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে এ কথা লিখেছে অনলাইন এনডিটিভি। ওই প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ভারতের জন্য কি অর্থ বহন করে তার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ফেরার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই জামায়াতে ইসলামী-ঘনিষ্ঠ এক আইনজীবী তারেক রহমানকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

সেই হুমকির বক্তব্যে ভারতের প্রসঙ্গও ছিল। জামায়াতে ইসলামী ঘনিষ্ঠ আইনজীবী শাহরিয়ার কবির অভিযোগ করেন, দেশে ফিরে এসে তারেক রহমান ‘তার পিতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন’ এবং ‘ভারতের শর্ত মেনে নিচ্ছেন’। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর ঢাকায় ফিরে বক্তৃতা দেন। তাতে তিনি দেশের জন্য নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। 

তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে হওয়া জনসমুদ্র নিয়ে জামায়াতে গভীর অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনের সময় জামায়াত সমর্থন দিয়েছিল ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)কে। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ বছরের ক্ষমতা হারান। এনসিপির নেতৃত্ব স্বীকার করেছেন, তারা আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করছেন। কিন্তু এনসিপির ভেতরেই তৈরি হয়েছে ভাঙন। অনেকে জামায়াতের সঙ্গে জোট চাইলেও, অনেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করছেন।

এ প্রেক্ষাপটে পরিচিত নেতা মীর আরশাদুল হক দল ছাড়েন। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে। ফলে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মূলত দুই শিবিরের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামায়াত নির্বাচন পেছাতে চাইছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, যার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও ভারতের কূটনৈতিক মিশন। 

ভারতের জন্য তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের তাৎপর্য

তারেক রহমান এমন এক নেতা- যিনি বাংলাদেশের স্বার্থকে সবার আগে দেখেন। তবে ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কও স্বীকার করেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী স্পষ্টতই ভারতবিরোধী।  ইসলামী মূল্যবোধে আস্থাশীল থেকেও তারেক রহমান এমন এক বাংলাদেশ কায়েমের কথা বলেন- যেখানে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সহাবস্থান নিশ্চিত থাকবে; ধর্মীয় উগ্রতার পথে দেশকে ঠেলে দেয়া হবে না। তিনি তার পররাষ্ট্রনীতিও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই দেশে পাহাড়ের মানুষ যেমন আছে, তেমনি সমতলের মানুষও আছে। মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ নানা ধর্মবিশ্বাসের মানুষ এখানে বাস করে। আমরা মিলে এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই- যে বাংলাদেশ স্বপ্নের, যে বাংলাদেশ মায়ের স্বপ্ন। এছাড়াও তিনি ঘোষণা করেন- বাংলাদেশ ‘না দিল্লি, না পিন্ডি- সবকিছুর আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে চলবে।

জামায়াতের আলাদা এজেন্ডা

জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণরূপে ভারতবিরোধী এবং পাকিস্তানঘেঁষা এজেন্ডা ধারণ করে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে হুমকি দিয়ে আইনজীবী শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘ভারতের স্বাক্ষর নিয়ে এলে তোমার মৃত্যু সন্নিকটে। ভারতকে বিশ্বাস করা মানেই মৃত্যু।’ তিনি ফারাক্কা চুক্তি, তালপট্টি দ্বীপ এবং ঐতিহাসিক বিরোধের নানা প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

ফারাক্কা পানি চুক্তি

১৯৯৬ সালে সই হওয়া ৩০ বছরের এই চুক্তি ২০২৬ সালে নবায়নের অপেক্ষায়, যা বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দুই দেশের জন্যই গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পরবর্তী সরকারকে দিল্লির সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ ও জামায়াতের অস্বস্তি

তারেক রহমান ইতিহাসের কথা তুলেছেন, যা জামায়াত মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে দিতে চায়।তিনি বলেন, এই দেশ ১৯৭১-এ লাখ লাখ শহিদের রক্তে অর্জিত। ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫-এ জনগণ ও সৈনিকরা আধিপত্যের বিরুদ্ধে দেশকে রক্ষা করেছিল। ১৯৯০-এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণ গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিল। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো প্ররোচনার মুখে শান্ত থাকতে হবে। তরুণদের উদ্দেশে বলেন, তোমরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। গড়ে তুলবে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির বাংলাদেশ।

কেন জামায়াত তারেক রহমানকে ভয় পায়

রিপোর্টে আরও বলা হয় আইনশৃঙ্খলা, শান্তি ও গণতন্ত্রকেন্দ্রিক তারেক রহমানের অবস্থান জামায়াতের রাজনীতির পথে অন্তরায়। এ কারণেই তারা সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সমালোচকদের ‘ভারত-মদদ তত্ত্বে’ জড়িয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে নির্বাসনে থাকা সত্ত্বেও, তারেক ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে জনসমর্থন পাচ্ছেন, এটাই জামায়াতকে আরও অস্বস্তিতে ফেলেছে। আগে বিএনপি-জামায়াত জোট থাকলেও এবার বিএনপি জামায়াতকে চাপে ফেলে নতুন জোট করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই)-এর সঙ্গে, যার মতাদর্শ জামায়াতের চেয়ে নরম।

বীণা সিক্রীর মতামত

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি বলেন, ১৭ বছর নির্বাসনের পর দেশে ফিরে আসায় বিএনপির জনপ্রিয়তায় একটি বড় স্রোত তৈরি হবে। জামায়াতে ইসলামী এখন বিএনপির বদলে অন্য ইসলামি দলগুলোর দিকে ঝুঁকছে। অনুবাদ: মানবজমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়