সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তুরস্ক সিরিয়ার মাটিতে রাডার সিস্টেম মোতায়েন করার চেষ্টা করছে বলে গত বৃহস্পতিবার দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে।
দুটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, আঙ্কারার এই পদক্ষেপ সিরিয়ার আকাশসীমায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম এবং ইরানের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পৌঁছানোর সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রাডার মোতায়েন করা হলে তুরস্ক সিরিয়ার আকাশে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। ইসরায়েল প্রায়শই ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘপাল্লার অভিযানের জন্য সিরিয়ার আকাশসীমাকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে। তুর্কি সিস্টেমগুলো যদি এসব ফ্লাইটের ওপর নজরদারি চালায়, তবে ইসরায়েলি অভিযানের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
জেরুজালেম পোস্টের একটি সূত্রের তথ্যমতে, এই সিস্টেমগুলো সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এগুলো পরিচালনা করবেন তুর্কি কর্মীরাই, যার ফলে সংগৃহীত তথ্যের ওপর আঙ্কারার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের শাসনের পতন এবং প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সিরিয়ায় তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দামেস্কের সাথে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সমন্বয়ও তৈরি হয়েছে।
গত ২২ ডিসেম্বর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এমআইটি) প্রধান ইব্রাহিম কালিন দামেস্কে আল-শারার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাদের আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) ভবিষ্যৎ নিয়ে, যাদের তুরস্ক একটি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল সিরিয়ায় বারবার বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটি প্রকাশ্যেই এমন কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে যা সেখানে তাদের সামরিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রগুলো এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল যে, তুরস্ক সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা নিতে চাইছে, যার মধ্যে টি-৪ বিমান ঘাঁটিও অন্তর্ভুক্ত।
এই রাডার সংক্রান্ত খবরটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ইসরায়েল এবং তুরস্কের মধ্যে বাকযুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গ্রিস ও সাইপ্রাসের নেতাদের সাথে দেখা করার পর একটি সতর্কবার্তা জারি করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা যেন সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের কল্পনা না করে।
এর জবাবে আঙ্কারায় জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি নেতানিয়াহুর মন্তব্যকে প্ররোচনামূলক আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন যে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক তার অধিকার ছিনিয়ে নিতে দেবে না। এছাড়া তিনি ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি হত্যার দায়ও চাপিয়েছেন।