গরমে অস্বস্তি এবং উচ্চ রক্তচাপ—দুটির লক্ষণই প্রায় একই। তবে গরমের কারণে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লে সাধারণত প্রেশার কমে যায়, আর অত্যধিক গরমে রক্তনালি প্রসারিত হয়েও প্রেশার কমে যেতে পারে। তবে রোদের তাপে বা ডিহাইড্রেশনে অনেকের হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা বমি ভাব হয়।
হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের অন্যতম কারণই হলো— অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ। কারও ক্রমাগত রক্তচাপ বেশি থাকলে হার্টের পাম্প করার কাজ বেড়ে যায়, হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে। জিনগত, বংশগত, স্থূলত্বসহ নানা কারণে রক্তচাপ বাড়তে পারে। শরীরচর্চার অভাবও নেপথ্য কারণ হতে পারে। সাধারণত স্থূলত্ব থেকে কোলেস্টেরল, রক্তচাপের সমস্যা হলে চিকিৎসকরা ওজন কমাতে বলেন, জীবনযাপনে বদল আনতে বলেন। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার।
আর মাথা হালকা লাগা, প্রচুর ঘাম, শরীর ক্লান্ত হওয়া ও মাথা ঘোরার সঙ্গে যদি বুক ধড়ফড় করে, সে জন্য রক্তচাপ মেপে নেওয়া জরুরি। রক্তচাপ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া ভালো কোনো লক্ষণ নয়। এর থেকে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। আর রক্তচাপ ১৪০/৯০ ছাড়ালেই তাকে উচ্চ বলে ধরা হয়। যে কোনো সুস্থ ব্যক্তির স্বাভাবিক রক্তচাপ হওয়া উচিত ১১০-১২০/৭২-৮০। যদি কারও রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর বেশি হয়, তখন রক্তচাপ বেড়ে গেছে বলা যায়। আর ব্লাডপ্রেশার মেশিনে মাপলে ১৪০/৯০ এমএমএইচজির বেশি পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ।
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় বুকে ব্যথা হবে। বুকে ব্যথা, আচমকা চোখে অন্ধকার দেখা কিংবা কয়েক মিনিটের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলার সমস্যাকে অনেকেই গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর নেপথ্যে থাকে রক্তচাপের সমস্যা।
সে জন্য রক্তচাপের তারতম্যের জন্য বেশিরভাগ কমবয়সিরাই ভুগে থাকেন। রাতে কম ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, অতিরিক্ত নেশার কবলে পড়ে রক্তচাপ ওঠানামা করে। হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে হাতের কাছে সবসময়েই ওষুধ মজুত করে রাখতে হয়।
উচ্চ রক্তচাপের কয়েকটি লক্ষণ—
১. বারবার মাথা যন্ত্রণা হওয়া উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে মাথার পেছনের দিকে ব্যথা হলে অবিলম্বে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় মাঝেমধ্যেই বুকে ব্যথা হতে পারে। বুকে ব্যথা, আচমকা চোখে অন্ধকার দেখা বা কয়েক মিনিটের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলার সমস্যাকে অনেকেই গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর নেপথ্যে থাকে রক্তচাপের সমস্যা।
৩. হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তো রয়েছেই, উচ্চ রক্তচাপ প্রভাব ফেলে চোখেও। রেটিনায় যে রক্তনালিগুলো থাকে, সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উচ্চ রক্তচাপের কারণে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়— হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি।
৪. নাক দিয়ে রক্ত অনেক কারণে বেরো হতে পারে। যদি দেখেন— সর্দিকাশি নেই অথবা সাইনাসের সমস্যা নেই, তাও নাক দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত বেরোচ্ছে। তাহলে সতর্ক হতে হবে। এটাও রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
৫. রক্তচাপের তারতম্য হলে হার্ট ও ফুসফুস সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে।