শিরোনাম
◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ◈ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ◈ তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩৮.৫° সেলসিয়াস, আজও ঝড়-বৃষ্টির আভাস ◈ মার্কিন অবরোধের প্রভাব: ভিসা-মাস্টারকার্ড লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা কিউবার ◈ মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার, কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার টি-টোয়েন্টিতে খেল‌বেন রিশাদ হো‌সেন! ◈ ১৩ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মা‌টি‌তে ওয়ান‌ডে জ‌য়ের স্বাদ পে‌লো  শ্রীলঙ্কা ◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৭ দুপুর
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এপ্রিলেই অসহনীয় গরম, নতুন রেকর্ডের শঙ্কা—সামনে আরও কঠিন সময়ের বার্তা

এম মাছুম বিল্লাহ : এপ্রিলের শুরুতেই দেশে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও দেশে তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল মাসই সবচেয়ে উষ্ণ সময়। এ মাসে গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মে মাস দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ মাস, যেখানে গড় তাপমাত্রা থাকে ৩২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই গড় তাপমাত্রা নিয়মিতই ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণাগুলো বলছে, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে এবং পরবর্তী ২৫ বছরে তা ৪৬ ডিগ্রিও অতিক্রম করতে পারে। এমনকি ২০৩৪ সালের দিকে আরও একটি ভয়াবহ তাপপ্রবাহের আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের ১ মে দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তবে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

পরিবেশবিষয়ক সংগঠন Environment and Social Development Organization (এসডো) জানিয়েছে, বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা আগামীতে দৈনিক গড়ের তুলনায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। গত চার দশকে দেশের গড় তাপমাত্রা প্রায় ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা আরও ০.৭ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্পকারখানা থেকে কার্বন নির্গমন, বন উজাড়, জলাশয় ভরাট এবং নগরায়নের কারণে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। এসব কারণ গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা ত্বরান্বিত করছে।

স্বাস্থ্যখাতে এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে হিটস্ট্রোক, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানা গেছে।

World Health Organization-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে তাপপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং ২০৮০ সালের মধ্যে তাপজনিত কারণে প্রতি এক লাখে প্রায় ৩০ জনের মৃত্যু হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের প্রভাব এবং এল নিনোর মতো বৈশ্বিক ঘটনাও তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমাদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বন উজাড় ও জলাশয় কমে যাওয়ায় পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

এসডোর চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সতর্ক করে বলেন, “এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে তাপমাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠবে। একে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো জরুরি।”

এদিকে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, El Niño-এর প্রভাবেও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে।

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কৃষি, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। তাই এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়