জুনের শুরুতেই তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের। ঢাকাসহ অন্তত ৪০টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। তীব্র রোদের সঙ্গে তপ্ত বাতাসে জনজীবন ওষ্ঠাগত। সেই সঙ্গে বাড়ছে হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি।
তবে স্বস্তির খবর দিয়ে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাত বাড়লে কমতে পারে গরমের তীব্রতা।
আজ বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘহীন এবং রোদের তীব্রতা ছিল প্রখর। দুপুর গড়াতেই ব্যস্ত সড়ক কিংবা ফুটপাত–সবখানেই গরমের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে তা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে।
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। আর যাদের বাধ্য হয়ে বের হতে হচ্ছে, তাদের ভরসা ছাতা, টুপি আর পানির বোতল। একটু স্বস্তির খোঁজে পথচারীদের রাস্তার পাশের দোকান থেকে শরবত বা পানি পান করতে দেখা গেছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী আহসান হাবিব, বলেন, ‘সহ্য করা যাচ্ছে না এমন গরম। সকাল সকাল অফিসে যাওয়ার সময়ই ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা। আর দুপুরের পর তো রোদের তাপে মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়। ছাতা মাথায় দিয়েও শান্তি নেই, বাতাসও মনে হচ্ছে গরম।’
রিকশাচালক রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘গরমের চোটে রাস্তায় রিকশা চালানো দায় হয়ে পড়েছে। একটু চালালেই বুক ধড়ফড় করে। পিপাসায় গলা শুকিয়ে যায়, কিছুক্ষণ পরপর পানি খাওয়া লাগে। রাস্তায় মানুষও কম, খেপ পাচ্ছি না।’
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ‘এল নিনো’র প্রভাবও এ অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে আগামীকাল থেকে আকাশে মেঘের পরিমাণ বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকবে। আশার কথা হলো, আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে সারা বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা একটু একটু করে বাড়তে পারে। তখন উপকূলীয় জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশজুড়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলে গরমের এই চড়া ভাব কেটে যাবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।