শিরোনাম
◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি! ◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৭ দুপুর
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হারিয়ে যাবে শীত, ডুবে যেতে পারে দেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ!

এম মাছুম বিল্লাহ : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশে শীত মৌসুম প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে—এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে দেশের উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১২ থেকে ১৮ শতাংশ স্থায়ীভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রাজধানীতে বুধবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জলবায়ু’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যৌথভাবে গবেষণাটি প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং Norwegian Meteorological Institute। এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে Save the Children।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেন আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বর্তমান হারে অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে দেশের গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে শীত মৌসুম ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় শীতকাল সীমিত হয়ে মাত্র এক-দুদিনের মৃদু শৈত্যপ্রবাহে পরিণত হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বর্ষার আগে দীর্ঘ সময় তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। ২০৭০ সালের মধ্যে এই সময়কাল ২০ দিন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং শতাব্দীর শেষে ৯০ দিনের মধ্যে প্রায় ৭০ দিনই তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজধানী ঢাকাতেও পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। বছরে অন্তত দুটি প্রবল তাপপ্রবাহ—একটি বর্ষার আগে এবং অন্যটি বর্ষার পরে—নগরবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃষ্টিপাতের ধরণেও বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০৭০ সালের মধ্যে বর্ষায় গড় বৃষ্টিপাত ১১৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং শতাব্দীর শেষে তা প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়বে।

অন্যদিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার হারে বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে স্থায়ী প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হবে এবং দেশের ১২ থেকে ১৮ শতাংশ এলাকা ডুবে যেতে পারে।

সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে সুন্দরবন। গবেষণা অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বনটির প্রায় ২৩ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৯ লাখ মানুষ তাদের বসতভিটা হারাতে পারেন। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও পানির উৎস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্বাস্থ্যখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়বে এবং তীব্র গরমে শ্রমজীবী মানুষের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একদিনে থামানো সম্ভব নয়। তবে ক্ষতি কমাতে দুই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি—প্রশমন (দূষণ কমানো) এবং অভিযোজন (ক্ষতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো)। এর মধ্যে রয়েছে বাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার।

World Meteorological Organization-এর তথ্য তুলে ধরে আয়োজকরা জানান, ২০২৪ সাল ছিল রেকর্ডকৃত উষ্ণতম বছরগুলোর একটি এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরও ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার (NAP) মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল কৃষি, টেকসই নগরায়ন ও প্রকৃতি-নির্ভর সমাধান বাস্তবায়নে কাজ করছে। তবে ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়