যৌন হয়রানি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষকের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রশাসনকে ১৫ মিনিটের আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে সমাবেত হয়ে এ আলটিমেটাম দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের এ আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চান শিক্ষার্থীরা।
তখন প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষককে বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।
আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।’
শিক্ষার্থীদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ঢাবি প্রক্টর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো চাপের কাছে মাথানত করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে প্রশাসন সব চাপ মোকাবেলা করবে।’
এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের দাবি জানালে ঢাবি প্রক্টর বলেন, ‘বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
আগামীকাল উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।’
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিম। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে তাকে আটক করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কিরে শিক্ষার্থীরা।
পরে ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে সমাবেশ করে তারা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করতে হবে। তারা বলেন, ১৫ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাদের সামনে এসে অভিযোগ শুনতে হবে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ তা জানাতে হবে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ