ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আটক থাকা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১১ শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে তাদের ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অধ্যাপক আবু জায়েদ। তিনি বলেন, ‘আজ বেলা আড়াইটার দিকে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গেছেন। আমরা কাউকে আটক রাখিনি, কেবল নিরাপত্তার জন্য তাদের ক্যাম্পাসে রেখেছিলাম।’
সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর জানান, ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
তবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান অভিযোগ করেছেন, আটক শিক্ষার্থীদের মারধর করে আধমরা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মূলত ইউজিসির প্রতিনিধিদল জিম্মি থাকা শিক্ষার্থীদের মুক্ত করেছে। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ তার দাবি, ড্যাফোডিলের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের হামলায় পাঠিয়েছেন—এমন জোরপূর্বক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান অভিযোগ করেন, ‘ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা হামলায় জড়িত ছিল। এতে আমাদের ২৫–২৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং শতাধিক আহত হয়েছে। আমাদের প্রায় ২০–২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুলিশকে জানালেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। হামলায় জড়িতদের মধ্যে কেউ কেউ ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এসি ভাঙচুর ও চুরির চেষ্টা করেছে। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমরা আলোচনার উদ্যোগ নিতে চাই, না হলে আইনের আশ্রয় নেব।’
রবিবার রাতে আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ক্যাম্পাসের আশপাশে বাসে আগুন দেওয়া হয় এবং উভয় পক্ষের বহুজন আহত হন। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক