নিজস্ব প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে উদ্বেগ, কোথাও কোথাও ভোগান্তি—এই প্রেক্ষাপটে পুরো ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ করতে মোটরসাইকেলের জন্য চালু করা হয়েছে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বিআরটিএ-এর যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থার লক্ষ্য—জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনা, অপচয় ও অনিয়ম কমানো এবং ভোক্তাদের জন্য প্রক্রিয়াকে সহজ করা।
কী এই ফুয়েল পাস
ফুয়েল পাস মূলত একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র। এতে থাকা ইউনিক কিউআর কোড স্ক্যান করে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি দেওয়া হয়। ফলে কে কত জ্বালানি নিচ্ছে, কোন গাড়িতে যাচ্ছে—সবকিছু সহজেই নজরদারির আওতায় আসে।
কেন চালু করা হলো
জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বচ্ছতা, লাইনে ভোগান্তি ও অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল। নতুন এই পদ্ধতিতে এসব সমস্যা কমানোর পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে। এতে সময় বাঁচবে, ঝামেলা কমবে এবং নজরদারি বাড়বে।
নিবন্ধনের জন্য যা লাগবে
ফুয়েল পাস নিতে হলে আগে থেকেই কিছু তথ্য ও নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। যেমন-জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর, সচল মোবাইল নম্বর।
কীভাবে নিবন্ধন করবেন
নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট (যঃঃঢ়ং://ভঁবষঢ়ধংং.মড়া.নফ/) বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। সেখানে ধাপে ধাপে ব্যক্তিগত ও গাড়ির তথ্য দিতে হয়। সব তথ্য দেওয়ার পর মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসে, যা দিয়ে নম্বর যাচাই করা হয়। এরপর পাসওয়ার্ড সেট করলে নিবন্ধন সম্পন্ন হয় এবং সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কিউআর কোড তৈরি হয়।
কিউআর কোড ব্যবহার করবেন কীভাবে
এই কোডই আপনার ফুয়েল পাস। এটি মোবাইলে সংরক্ষণ করা যায়, আবার প্রিন্ট করে রাখাও যায়। ফিলিং স্টেশনে গেলে এই কোড স্ক্যান করেই জ্বালানি দেওয়া হবে।
যাদের স্মার্টফোন নেই
যারা অনলাইনে নিবন্ধন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তারা নিকটস্থ কম্পিউটার বা ফটোকপি দোকান থেকে সহজেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেন এবং প্রিন্ট করা কিউআর কোড সংগ্রহ করতে পারেন।
রাজধানীর সাত পাম্পে ফুয়েল পাস ছাড়া মিলবে না তেল
এ সাতটি পাম্প হলো-আসাদ গেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন, তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জের নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার, মিরপুর দারুসসালামের খালেক সার্ভিস স্টেশন ও আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন।
‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের কার্যক্রম আরও ১৯ জেলায়
নতুন যুক্ত জেলাগুলো হলো-গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল ঢাকা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি জেলা ও মহানগরে এই অ্যাপের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। সে সময় ঢাকা ও ঢাকা মেট্রো ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল মহানগরসহ চাঁদপুর ও ময়মনসিংহে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলগুলোকে ‘ফুয়েল পাস বিডি’ সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই দিন ঢাকায় ১৮টি পাম্পে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়।