শিরোনাম
◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি! ◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ ◈ কারামুক্ত হলেন সাবেক মেয়র আইভী ◈ দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২১; আহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশি ◈ ‘আসল’ তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রতের হাতে, মমতাকে উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের ওয়ান‌ডে দল ঘোষণা, মিরাজ অ‌ধিনায়ক ◈ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ তুলে নিল সরকার

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:১০ দুপুর
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

মধ্যপ্রাচ্যের ১৮ দেশে পোশাক সরবরাহ বন্ধ, রপ্তানি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

মনজুর এ আজিজ: মধ্যপ্রাচ্যের ১৮ দেশের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। আরব ও অনআরব মিলিয়ে এই অঞ্চলে আগে থেকেই রপ্তানি সীমিত থাকলেও এখন একেবারেই বন্ধ হওয়ায় মারাত্নক রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়েছে বাংয়লাদেশ। যদিও এসব দেশে মোট রপ্তানির অংশ এক শতাংশেরও কম। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। এখন ওই অঞ্চলে রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে তৈরি পোশাক খাতে। এই প্রধান রপ্তানি পণ্য পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে টুপিসহ কিছু ছোট পণ্য আংশিকভাবে যাচ্ছে।

ইরানে হামলার পর সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। এর প্রভাবে আকাশ ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো তাদের অর্ডার স্থগিত করেছে। এসব আদেশ কবে আবার চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা এই বাজার এখন বড় ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে উপসাগরীয় সহযোগী পরিষদ (জিসিসি)ভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি দ্রুত বাড়ছিল। প্রায় ১০০ কোটি ডলারের সম্ভাবনাময় বাজার এখন অনিশ্চিত অবস্থায়। সম্প্রতি সীমিত আকারে আকাশপথে যোগাযোগ শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। যুদ্ধ থেমে গেলেও দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ বিভিন্ন দেশে অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি হয়েছে ৬৬ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে, ২৮ কোটি ১১ লাখ ডলার।

দ্বিতীয় অবস্থানে সৌদি আরব, ২৫ কোটি ১৬ লাখ ডলার। কুয়েতে রপ্তানি প্রায় ২ কোটি ডলার। সংঘাতের কেন্দ্র ইরানে রপ্তানি ছিল ৮১ লাখ ডলারের কিছু বেশি। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অঞ্চলে মোট রপ্তানি ছিল ৮২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি। ইপিবি মধ্যপ্রাচ্য ব্লকে ১২টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। এর মধ্যে জোব্বা, শেরওয়ানি, আম্মামা, পাগড়ি, সিরওয়ালসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক রয়েছে। পাশাপাশি শার্ট, প্যান্ট, স্যুট ও ব্লেজারেরও চাহিদা আছে। অনেক ক্ষেত্রে বহুজাতিক ব্র্যান্ডের মাধ্যমে তৃতীয় দেশ হয়ে এসব পণ্য মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়। পোশাকের বাইরে সবজি, ফল, কৃষিপণ্য ও চামড়াজাত পণ্যও রপ্তানি হয়। পর্যটন বাড়ানোর পরিকল্পনার কারণে ভবিষ্যতে এই বাজারে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাও ছিল। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, গত অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির প্রায় ৮৯ শতাংশই ছিল তৈরি পোশাক। মূল বাজার ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব।

বর্তমানে এই বাজার প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিমান চলাচল সীমিত, আর জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। ফলে প্রায় শতকোটি ডলারের বাজার এখন অকার্যকর। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বেশি এবং উচ্চমূল্যের পোশাকের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে। সৌদি আরব ও কুয়েতের তেল-গ্যাস অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পর্যটন খাতেও ধীরগতি দেখা দেবে। ফলে এই বাজার দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরবে না। দীর্ঘমেয়াদে বাজারটি ফিরে আসবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তৈরি পোশাকের নতুন বাজার হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব সম্ভাবনাময় ছিল।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে আমিরাতে ২০ কোটি ডলার এবং সৌদি আরবে প্রায় ১৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। বর্তমানে এই দুই দেশেও রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যে পোশাক রপ্তানি করে আসছিল। কিন্তু এখন সব কার্যক্রম বন্ধ। ক্রেতারা আপাতত উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ রাখতে বলেছে। হামলার পরপরই সুইডিশ ব্র্যান্ড এইচ অ্যান্ড এম তাদের অর্ডারের উৎপাদন স্থগিত করে।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বাজার গড়ে তুলতে কাজ করছে বিজিএমইএ। স্থানীয় চাহিদা বোঝা, মৌসুমভিত্তিক পণ্যের ধরন নির্ধারণ এবং রঙের প্রবণতা নিয়ে গবেষণা চলছে। বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও জোরদার করা হয়েছে। তবে চলমান সংকটে সেই অগ্রযাত্রা থমকে গেছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়